সঙ্গীতা মুখার্জী মণ্ডল (দুর্গাপুর)

তনু ভীষণ ভালোবাসতো ঈশানকে। কিন্তু ঈশান কি তাকে সত্যি ভালোবাসে? এই প্রশ্নটা সারাক্ষণ ঘুরতো তনুর মাথায়।
একদিন ঈশানকে বললো, আচ্ছা ঈশান, তুমি কি কোনোদিন শুধু আমার জন্য আমার কাছে আসতে পারবে? সত্যি কথা বলবে, এই আমার দিব্যি দিলাম।
ঈশান শুধু বলেছিল, হ্যাঁ।
তাতেই সে কী আনন্দ তনুর!
ঈশান বললো, কী গো, চুপ করে গেলে? তোমার কি রাগ হলো?
তনু মৃদু হেসে বললো, না গো, রাগ নয়। ভরসা হলো, বিশ্বাস হলো।
তনু খুব বেশি কথা বলে। ঈশান শান্ত, কিন্তু রাগী। ভয়ও করে তনু ওকে। তবুও প্রশ্ন করা ছাড়ে না।
আবার একদিন জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা ঈশান, এই যে আমি তোমায় হারাতে ভয় পাই, এটা কি আমার একার ভয়?
উত্তরে ঈশান বললো, ভয় পাওয়া সম্পর্কে আকর্ষণ ও নিবেদন তৈরি করে।
তনু বললো, এটা কোনো উত্তর হলো না, ঈশান।
বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে ঈশান বললো, না।
তনু বললো, আচ্ছা।
তনুর সমস্ত উত্তর হয়তো সে দিয়ে দিয়েছে। তাই আর কোনো প্রশ্ন নেই…
কিন্তু একটা প্রশ্ন আজও কোথাও থেকে গেছে।
সেদিন ঈশান বলেছিল, সে শুধু তনুর জন্য তার কাছে আসবে।
তাহলে শুধু তার জন্য আসবে কেন?
কেউ কি শুধু কারও জন্য এতটা পথ পাড়ি দেয়, যদি তার ভেতরেও না থাকে সেই টান? সেই ভয়? সেই অপেক্ষা?
তনু আর কোনোদিন প্রশ্ন করেনি। কারণ সে জানে, কিছু উত্তর মুখে বলা হয় না। কিছু উত্তর লুকিয়ে থাকে মানুষের আচরণে, ফিরে ফিরে আসার ইচ্ছেতে, আর অকারণে কারও কাছে পৌঁছে যাওয়ার টানে।
তবুও মনের এক কোণে প্রশ্নটা আজও চুপচাপ বসে আছে—
তাহলে শুধু আমার জন্য আসবে কেন?
