রানিগঞ্জ পুলিশের বড় সাফল্য: দুই মাস পুরনো চুরির রহস্য উন্মোচিত, উত্তর ২৪ পরগনা থেকে দুই কুখ্যাত চোর গ্রেফতার
সংবাদদাতা, রানিগঞ্জ:- বলা হয়, অপরাধী যতই ধূর্ত হোক না কেন, সে কোনো না কোনো সূত্র রেখে যায়। রানিগঞ্জ পুলিশ একটি গেঞ্জি (বানিয়ান) ও সিসিটিভি ফুটেজের সাহায্যে পশ্চিমবঙ্গের একটি বড় চুরি চক্রের পর্দাফাঁস করেছে, যারা প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূর থেকে এসে চুরির ঘটনা ঘটাত।
নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বিকাশ দত্তের নেতৃত্বে রানিগঞ্জ পুলিশ বড় সাফল্য অর্জন করেছে। থানা এলাকায় সংঘটিত ২৯টি চুরির ঘটনার মধ্যে ২৩টির রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।
গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকে দুই কুখ্যাত চোর—আশোকনগরের বাসিন্দা আশরাফুল মণ্ডল এবং দেগঙ্গার বাসিন্দা নজিমুল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের এই অভিযানকে এলাকার আইন-শৃঙ্খলার দিক থেকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রানিগঞ্জ থানা এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। চুরিগুলো অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছিল, যা থেকে স্পষ্ট ছিল যে এর পেছনে পেশাদার অপরাধীরা জড়িত।
প্রায় দুই মাস আগে কালীতলা এলাকায় বন্ধ বাড়িগুলোকে লক্ষ্য করে নগদ টাকা ও মূল্যবান গয়না চুরি হয়। বাড়িতে ফিরে এসে ক্ষতিগ্রস্তরা আলমারি ভাঙা ও জিনিসপত্র ছড়ানো অবস্থায় দেখতে পান, যা থেকে বোঝা যায় চোরেরা খুব নিশ্চিন্তে ও নির্ভয়ে চুরি চালিয়েছিল।
চুরির খবর পাওয়ার পর পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে এবং মোবাইল লোকেশন ও কল ডিটেল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে। শুরুতে কোনো শক্ত সূত্র না মিললেও, লাগাতার প্রচেষ্টায় সন্দেহজনক কার্যকলাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
এই সময় গোপন খবর আসে যে চুরির ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনার অপরাধীরা জড়িত থাকতে পারে। এরপর একটি বিশেষ দল গঠন করে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হয়ে আশরাফুল মণ্ডল চুরির কথা স্বীকার করে জানায়, ফাঁকা বাড়ি দেখেই তারা চুরির ঘটনা ঘটিয়েছিল। অভিযুক্তের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা নগদ ও মূল্যবান গয়না চুরি করা হয়েছিল।
সে আরও স্বীকার করে যে জুয়ার নেশার কারণে চুরি করা প্রায় সমস্ত টাকা সে খরচ করে ফেলেছে। শর্টকাটে ধনী হওয়ার লোভই তাকে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়।
বর্তমানে পুলিশ দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। চুরি যাওয়া বাকি গয়না উদ্ধারের পাশাপাশি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের দেখানো মতে আরও বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হতে পারে।
এই সাফল্যের পর রানিগঞ্জবাসীর মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, এতে অপরাধীদের মনোবল ভেঙে পড়ে এবং সমাজে বার্তা যায় যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বিকাশ দত্ত বলেন, এই সাফল্য টিমওয়ার্ক, প্রযুক্তিগত প্রমাণ এবং নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফল। তিনি সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেন, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানান, যাতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
সব মিলিয়ে, দুই মাস পুরনো চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন রানিগঞ্জ পুলিশের একটি বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। এখন সবার নজর পরবর্তী পদক্ষেপ, গয়না উদ্ধারে অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দিকে।
