সুমিতা সিনহা (দুর্গাপুর)

অটোতে উঠে ফ্যালফ্যাল করে পিছনের দিকে তাকিয়ে রইলো নয়ন। দশ বছরে তিল তিল করে বুক দিয়ে ধ্বংসস্তূপ ঠেলে গড়ে তোলা তাসের ঘরটা ভেঙ্গে গেল আজ। চোখটা অসম্ভব জ্বালা করছে। হয়তো এখুনি দুফোটা জল গড়িয়ে পড়বে। পিছনের সিটে বসা মেয়ে, বউ, বৃদ্ধ বাবার উৎকণ্ঠা ভরা মুখ যেন ঘন বরষায় টলটলে দিঘির মতো লাগছে। আজকের মতো সূর্যটা সেদিনও থম মেরেছিল। আকাশ জুড়ে ছিল চাপ চাপ ঘন কালো মেঘের আনাগোনা। বহুদিন ধরেই অস্থির হয়ে আছে রাজনৈতিক পরিবেশ। বেশ বুঝতে পারছিল এবার হয়তো এক অনিশ্চয়তার জীবন শুরু হতে চলেছে। পাড়ায় পাড়ায় গুজগুজ ফুসফুস শুরু হয়ে গেছে। কখন কি হয় এই আতংকে দিন কাটছিল সবারই।
আজও চোখ বুঝলে ভেসে ওঠে সেদিনের সেই ভয়ংকর রাতের কথা। কানাঘুষোয় খবর এসেছে আজ রাতেই আঘাত হানতে পারে। যার যেখানে যেখানে সুতোর মতো আত্মীয় স্বজন থাকে সেখানেই সংসারের তাঁবুটা নিয়ে ফেলেছে। এঁকে এঁকে অনেকেই রাতের আঁধারে ওদেশের বেড়া ডিঙিয়ে এপারের মাটিতে সংসারের তাঁবু গেড়েছে। নয়নও বাদ যায় নি। আর যাদের কোনো উপায় নেই তাঁরা অসহায়তার চোখ নিয়ে একটা একটা করে দিন গুনেছে শেষের পথে এগিয়ে যাবার জন্য।
সেদিন ভিটেমাটি ছেড়ে আসার যন্ত্রণা টের পায় নি। আজ এক দশক পেরিয়ে আসার পর নতুন করে যন্ত্রণাটা বুকে বড্ড বেশী বিঁধছে। বুঝতে পারে না ভুলটা ঠিক তাদের কোথায় হয়েছে। এ যেন আরেকবার 'অন্তর্জলী' যাত্রা শুরু হলো।