কবিতা মুখার্জি বিশ্বাস (কলকাতা)

জানো মা গো ইচ্ছে করে আবার ফিরে যেতে
ফেলে আসা ছোট্ট বেলার সেই দিনগুলোতে,,
দুপুর গড়িয়ে যখন হতো ঠিক বিকেল বেলা
ছাদের পরে শুরু হতো আমার বন্ধু বন্ধু খেলা।
ছাদ ভর্তি ছিল কতো বাবার রঙিন ফুলের টব
বিকেলবেলা ওরাই তো হতো আমার বন্ধু সব,,
আমার সঙ্গে গল্প করতো তারা মাথা নেড়ে নেড়ে
সেই গল্পে আসতো দোয়েল-টুনি দূ-র থেকে উড়ে।
বকবকিয়ে আমি যখন খুব ক্লান্ত হয়ে যেতাম
মাদুর পেতে ছাদের পরে তখন চিৎ হয়ে শুতাম,,
নীল দিগন্তে তাকিয়ে দেখি যাচ্ছে মেঘবালিকারা
কিন্তু থাকতো তখন তাদের বাড়িতে যাবার তাড়া।
ছাদের থেকেই ডেকে আমি মেঘবালিকাকে শুধাই
ও মেঘবালিকা! শুধুই কেন করো এতো যাই যাই?
যাচ্ছো কি মেঘমার কাছে না কি অন্য বন্ধুর বাড়ি?
একটু দাঁড়াও আমার জন্য,নইলে হবে কিন্তু আড়ি।
তবুও দেখি মেঘবালিকার কি যে ভীষণ তাড়া!
সিক্ত চোখেই দেখি মেঘের বিদায়ের হাত নাড়া,,
দোয়েল-টুনি তারাও কখন যেন চলে গেছে উড়ে
তুলসী তলায় মা দিচ্ছে প্রদীপ,শঙ্খ বাজছে দূরে।
সকাল দেখি অনেক বড়ো, রাত্রিও যে অনেক বড়ো
কেন মা তবে বিকালটা শুধু হলো এমন ছোট্টতর?
আর একটু বিকাল বড়ো হলে খুব কি ক্ষতি হতো?
ফুল,পাখি,মেঘবালিকারা তবে আরও গল্প করতো।