অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -:
ইট-কাঠ-পাথরের ব্যস্ত জীবন এবং স্মার্টফোনের ভার্চুয়াল দুনিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানাতে শিল্পাঞ্চল আসানসোলে পা রাখল ঐতিহ্যবাহী ‘অজন্তা সার্কাস’। ঐতিহাসিক পোলো গ্রাউন্ডে বর্ণাঢ্য এই সার্কাসের তাঁবু পড়তেই ভিড় জমাতে শুরু করেছেন শহরবাসী। বসন্তের আমেজে গা ভাসিয়ে সপরিবারে বিনোদনের এক নতুন ঠিকানা হয়ে উঠেছে এই ময়দান। আসানসোলের আকাশে-বাতাসে এখন সার্কাসের বাঁশির সুর। শহর জুড়ে মাইকিং এবং পোস্টারে ছেয়ে গেছে চারপাশ যা বড়দের মনে করিয়ে দিচ্ছে তাদের ফেলে আসা ছোটবেলার নস্টালজিয়া।
অজন্তা সার্কাস এবার নিয়ে এসেছে চোখ ধাঁধানো সব খেলা। জিমন্যাস্টদের অদ্ভুত শারীরিক নমনীয়তা এবং সাহসিকতা দর্শকদের অবাক করে দিচ্ছে। আকাশছোঁয়া ট্র্যাপিজের খেলায় মাঝ আকাশে ঝুলে থাকা দড়িতে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে শিল্পীদের উড়ে যাওয়া দেখে মুহূর্তের জন্য থমকে যাচ্ছে দর্শকদের হৃদস্পন্দন। বিশাল লোহার গোলকের মধ্যে দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর দৃশ্যটি রোমাঞ্চের চরম সীমায় পৌঁছে দিচ্ছে। শিশুদের সবথেকে প্রিয় আকর্ষণ হলো জোকারদের মজাদার অঙ্গভঙ্গি। তাদের নিখাদ কৌতুকে সারাক্ষণ হাসিতে ফেটে পড়ছে সার্কাসের গ্যালারি।
বর্তমান যুগে যখন সার্কাস শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে, তখন অজন্তা সার্কাসের এই আয়োজন শিল্পাঞ্চলের মানুষের কাছে এক পরম প্রাপ্তি। কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী কয়েক সপ্তাহ এই ভিড় আরও বাড়বে এবং সার্কাস শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে আসানসোলবাসী বড় ভূমিকা নেবে।


