উন্মুক্ত বক্ষ

তোমাদেরই ইন্দু (কলকাতা)

প্রেমিকার বুকের স্তন তুমি খুবলে খেয়েছ৷ তার পিঠে নখের দাগ বসিয়ে দিয়েছ ৷ সেখানে তুমি কেবলই দেখেছ কামুকতা আর লকলক করা নেশা৷ অথচ তার অন্তর্বাসের নিচে শুধু স্তন না৷ স্তনের নিচে চামড়ার ওপাশে একটা সুপ্ত হৃদপিন্ড থাকে৷ সেটার খোঁজ নেওনি৷

তাঁর বুকে কখনও কান পেতে শোনোনি প্রতি মিনিটে ৭২ বার স্পন্দিত করে কি বলে৷ তুমি শুধু দেখেছ তার উন্মুক্ত বুকের স্তন৷

তাঁর চুলের মুঠি ধরে তাকে প্রহার করেছ প্রতিরাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে যায়৷ অথচ কখনও তার চুলে নাক ডুবিয়ে বলোনি “চুলে কি শ্যাম্পুর বদলে অ্যালকোহল মাখো? এতো নেশাভরা ঘ্রাণ কেনো তোমার চুলে!

প্রতিরাতে সঙ্গমে তাকে নিজের যৌনদাসী করে চিৎকার শুনেছ৷ অথচ জানতে চাওনি প্রতিমাসে পাঁচদিন পিরিয়ডের সময় সে কেমন আছে?

তার শরীর মোটা বলে তাকে “হাতির বাচ্চা” বলে গালা গালি দিয়েছো৷ শরীরের মেদ কমানোর জন্যে তাকে চাপ দিচ্ছ৷ তাঁর শরীরের ভাঁজে ভাঁজে চর্বি খুঁজেছ না হলে সবাই তোমাকে বলবে “কিরে এমন মোটা মেয়ে বিয়ে করেছিস কেন? অথচ তুমি জানতে চাওনি! এ মোটা মেয়ে প্রতিদিন তোমার প্রতিক্ষার প্রহর গুনে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে তোমার জন্যে তৈরি করে প্রতিরাতে৷

কখনও আবিষ্কার করোনি তার শরীরে ক’টা তিল৷ শুধু আবিষ্কার করেছো খেতে বসলে প্লেটে কতগুলো চুল পড়লো৷

তুমি বাড়ি থেকে বের হবার পর এ মানুষটা সারাদিন চিন্তায় থাকে৷ তুমি ঠিকমত পৌছেছো কিনা! সারাদিনে কিছু খেয়েছ কিনা! তুমি ছাড়া একলা প্রতিদিন বুকে পিপাসা নিয়ে কাটায়৷ তোমার পরিবারের জন্যে রান্না করা থেকে সব করে অথচ তুমি সারাদিনে ক্লান্ত হয়ে এসে বলো “সারাদিন কি বালটা করছো?

তুমি একটু রেগে গেলেই তাকে “খানকী” বলে খিস্তি করো৷ তার অভিমানে বুক ভাসিয়ে যখন কান্নায় ভেঙে পড়ে, তুমি তখন বলো “প্যান প্যানানী বন্ধ কর” অথচ তার চোখে কখনও মুগ্ধতা দেখো নি৷ কখনও বলোনি “চোখে কাজল দিলে তোমাকে দেবী দেবী লাগে” ।

তুমি শুধু তার পরনের শাড়ি খুলতে শিখেছো৷ অথচ কখনও নিজে শাড়ি পরিয়ে দাওনি৷ শাড়ির কুচি ঠিক করতে গিয়ে তার নাভী স্পর্শ করে বলোনি “শাড়ি পরলে তোমাকে মায়াবতি লাগে”

সেক্স, নেশা, কামুকতা ছাড়াও একটা মানুষের যে আরও অনেক কিছু চাওয়ার আছে সেটা তুমি বোঝোনি৷ বুঝতেও চাওনি৷ মনে রেখো! এসব তুমি বুড়ো হয়ে গেলেই ফুরিয়ে যাবে, ক্ষয় হয়ে যাবে, আজ আছে তো কাল নেই৷ কিন্তু প্রিয় মানুষের জন্যে তোমার চোখে যে প্রেম ভালোবাসা সেটা তুমি যুগ যুগ ধরে পেতে থাকবে৷

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *