জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শিবানীপুরে শ্রীকৃষ্ণের জীবন চরিত নিয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বাইজিদ মন্ডল: ডায়মন্ড হারবার:– জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গল বার “মুক্তকণ্ঠ”-র উদ্যোগে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার অন্তর্গত শিবানীপুর স্বামী বিবেকানন্দ উদ্যানে শ্রীকৃষ্ণের জীবন চরিত নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।এদিন শ্রীকৃষ্ণের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর বৈদিক শান্তি মন্ত্র এবং গীতার ভক্তি যোগ অধ্যায় পাঠ করা হয়। পাঠ করেন সরিষা রামকৃষ্ণ মিশন সারদা মন্দিরের ছাত্রী কৃত্তিকা মণ্ডল। পাশাপাশি উপস্থিত ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন “সঞ্জীবনী”-র সম্পাদক ও লেখক সঞ্জয় গায়েন। এই ক্যুইজ বা প্রশ্নোত্তর পর্ব ছোট ছোট প্রশ্নের উত্তরগুলি সাজিয়ে নিলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, শ্রীকৃষ্ণ একটি ঐতিহাসিক চরিত্র এবং মহাভারত কেবল কাব্য নয়, তৎকালীন ভারতের সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিহাস। এই আলোচনা সভার আয়োজক ও আহ্বায়ক তথা আইনজীবী তপনকান্তি মণ্ডল এই আলোচনা সভার প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করেন। আদর্শ জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা গ্ৰহণের আবেদন জানান। তিনি আরও বলেন, মূল মহাভারতে রাধা চরিত্রের কোন উল্লেখ না থাকলেও পরবর্তী কালে একদল ভক্তিবাদী মানুষ রাধা চরিত্রের সৃষ্টি করেছেন। তাঁদের একটি স্বতন্ত্র দর্শনও গড়ে উঠেছে। বাঙালী মননে প্রথম শ্রীকৃষ্ণ চরিত্র সম্পর্কে বাস্তবসম্মত আলোচনার সূত্রপাত করেন সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ধর্ম সংস্কৃতি রক্ষা, উন্নত সমাজ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র নির্মাণ— সর্বত্রই তিনি পথের দিশারী হয়ে আছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। প্রসঙ্গত তিনি শ্রীচৈতন্যের উচ্চ শিক্ষা, মেধা ও বীরত্বের সঙ্গে গণ আন্দোলনের সফল নেতৃত্ব দানের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে একথাও উঠে আসে যে,স্বামী বিবেকানন্দই এযুগে শ্রীকৃষ্ণের যথার্থ উত্তরসূরী।থাঙ্কুমনি কুট্টির শিষ্য মানস শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ভারত নাট্যম্ নৃত্য পরিবেশিত হয়। অংশগ্রহণ করেন তৃর্ণা চৌধুরী, মাম্পী মণ্ডল, অহনা দাস, শ্রেয়সী পাল, অর্চিকা কুঁতি, পিউ মণ্ডল ও স্পন্দিতা মণ্ডল। প্রাসঙ্গিকত আলোচনা ও কবিতা পাঠ করেন কবি নিশিকান্ত সামন্ত, মানস চক্রবর্তী, মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল ও রূপক গায়েন । অণু গল্প পাঠ করেন শ্রাবণী হালদার।এছাড়া সঙ্গীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন অনুরাগ গায়েন, সৃজিতা মণ্ডল, ব্রততী হালদার, প্রত্যুষা মণ্ডল, বাবলু মণ্ডল প্রমুখ। এধরণের ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান দর্শক শ্রোতাদের মনে নতুন চিন্তার স্ফূরণ ঘটায়। সবশেষে উপস্থিত সকলে প্রসাদ গ্ৰহণ করেন এই আলোচনা সভার পক্ষ থেকে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *