দূরন্ত এক্সপ্রেস

বৃষ্টি নূপুর শ্রেয়া (কলকাতা)

অচেনা এক স্টেশন
ঘড়ির কাঁটা থেমে আছে ডট বারোটায়,
ট্রেনের আলো ঝিমিয়ে আসছে
আর কানে ভেসে আসছে হুইসেলের সুর,
যেন কারও দীর্ঘশ্বাস।

বগিতে আমি একা না, একা নই,
তোমার মতো কারও ছায়া বসে আছে বিপরীতে,
চোখে ঠান্ডা আলো, ঠোঁটে অদ্ভুত হাসি।

কে যেনো ফিসফিস করে বলছে — “ভয় পাচ্ছ?”
আমি হেসে বলি, “না,না, আমি তো কবি।”
আমি ভয় পাবো কিসে?
বিদ্রুপের হাসিতে বলল “তাহলে দেখো, কবিতার ভেতরও মৃত্যু বাসা বাঁধে।”

হঠাৎ ট্রেনের জানালা খুলে যায়,
বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার
হাওয়ায় ভেসে আসছে তোমার গলার গন্ধ
তুমি কি আছো কোথাও,
না কি আমি শুধু নিজের ছায়ার প্রেমে পড়েছি?

রেললাইনের পাশে কে যেন হাঁটছে,
চাদরে ঢাকা মুখ,
হাতের মধ্যে দপদপ করছে একটা প্রদীপ
আমি দেখেছি… না, হয়তো দেখিনি।

হঠাৎ ট্রেন থেমে যায়
একটা স্টেশনে যেখানে কোনো নাম লেখা নেই,
শুধু একটা বোর্ডে লেখা আছে “সমাজ”।
একে একে সবাই নেমে গেলো
রয়ে গেলাম আমি শুধু রয়ে গেলাম।
নামতে চেয়েও যেনো পারলাম না
কে যেনো আমায় পিছন থেকে টেনে ধরেছে
আমার পাশে কেউ নেই একা
শুধু থেকে গেলো একটা মুখোশ
আর একটা ফোনের স্ক্রিন।

আমি একা আছি
কাচের জানলায় দেখছি নিজের প্রতিচ্ছবি
বুঝতে পারলাম ভয়টা বাইরের নয়
ভয়টা নিজের ভেতরেই ছিল সবসময়।

হ্যাঁ— কি বলছ
ও ভালোবাসা?
হুম তা তো হয়েছিল ঠিক
কিন্তু সেটা ছিল ক্ষণিকের বিভ্রম,
একটা আলোর টুকরো
যা জ্বলে, আবার নিভে যায়
ঠিক এই ট্রেনের মতো।

শেষে শুধু একটাই শব্দ কানে ভেসে আসছিল
কি বলছ

“পরের যাত্রা — সে তো অনন্ত… এখনও বহুদূর।”

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *