রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -:
রবিবাসরীয় দুপুরে আসানসোলের কল্যাণপুরে আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে ভোটার তালিকা,এনআরসি সহ নানান বিষয়ে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জ্জী। এদিনের সভার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন মমতা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করাই এখন তার একমাত্র লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন,
১০০ দিনের কাজ এবং আবাসের টাকা আটকে রেখে কেন্দ্র বাংলার মানুষকে ভাতে মারার চেষ্টা করছে। তার অভিযোগ সিবিআই, ইডি সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে কেন্দ্র বিরোধী কণ্ঠ রোধের চেষ্টা করছে। আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা এবং শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং কেন্দ্রের উদাসীনতার বিরুদ্ধে তিনি তোপ দাগেন। বিজেপির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সাহস থাকলে সামনা-সামনি লড়াই করুন।
ভিড়ে ঠাসা ময়দানের উপস্থিত সমর্থকদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন,”আমি লড়তে জানি, আমি পিছু হঠতে জানি না। বিজেপিকে উৎখাত করে তবেই দিল্লিতে যাবো। দেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, “বাংলা থেকেই পরিবর্তনের হাওয়া শুরু হবে এবং দিল্লির মসনদ থেকে বিজেপিকে সরানোর ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে।” তিনি দলীয় কর্মীদের একজোট হয়ে লড়াই করার বার্তা দেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, আসানসোলের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে এবং বিভাজনের রাজনীতি এখানে সফল হবে না।
এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন আসানসোল উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী মলয় ঘটক ও তাপস ব্যানার্জ্জী, পাণ্ডবেশ্বরের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, জামুড়িয়ার হরেরাম সিং এবং কুলটির প্রার্থী অভিজিৎ ঘটক।
রবিবারের এই সভা ঘিরে আসানসোল ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এদিনের সভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো আগামী দিনের “দিল্লি দখলের” লড়াইয়ের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন।



