বিয়ের দিনে বিয়ের মণ্ডপে না গিয়ে সার এর শুনানিতে পৌঁছলেন বর

বাইজিদ মন্ডল: ডায়মন্ড হারবার:- বিয়ের দিনে বিয়ের মণ্ডপে নয়, বরং বরের সাজেই এসআইআর শুনানিতে বড় ও তার সঙ্গে ৩৮ জন বরযাত্রীরা। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ডায়মন্ড হারবারে। বিয়ের দিনেই এস আই আর হিয়ারিং এর জন্য হাজিরার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া খবর ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার এক নম্বর ব্লকের বলসিদ্ধি কালিনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এর সাঠমনীষা ২৬২ নম্বর বুথের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের বিয়ের দিনেই ছিল শুনানি। বিয়ের সাজেই এসআইআর শুনানিতে হাজির বর ও বরযাত্রীরা। চমকপ্রদ এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ডায়মন্ড হারবারে। বিয়ের দিনেই এসআইআর শুনানির নোটিশ আসায় চরম সমস্যায় পড়তে হয়েছে বর ও তাঁর পরিবারকে। বিয়ের পোশাক পরেই শুনানি কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হন বড় আনোয়ার হোসেন খান।তারাও বরের সঙ্গে শুনানি কেন্দ্রে নথি জমা দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রত্যেকের নামের বানান ভুল এবং আন ম্যাপিং এর কারণেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল শুনানির জন্য। এই ভাবে এসআইআরের নামে হিয়ারিংয়ে ডেকে হেনস্থার প্রতিবাদ জানিয়ে সরব হয়েছেন বর ও বরযাত্রীরা সকলে। জানা গিয়েছে পাত্রীর বাড়ি হাওড়ায়। কিন্তু বিয়ের দিনেই ষাট মনীষা প্রাথমিক বিদ্যালয় এসআইআরের শুনানির ডাক পড়ে আনোয়ার হোসেনের খাঁ। তাই বাধ্য হয়ে বিয়ে করতে যাওয়ার আগে বরের সাজে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হন আনোয়ার হোসেন। ‌শুধু কি বর? সঙ্গে রয়েছেন বরযাত্রীরাও। পরিবার সূত্রে খবর, বর ও তাঁর পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকেই শুনানিতে ডাকা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মোট ৩৮জনকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল।এই বুথে প্রায় ১১০০ ভোটারের মধ্যে প্রায় পাঁচশ ভোটারকে এসআইআরের নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। আজ সকাল থেকে ষাটমনিষা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুনানি কেন্দ্রর সামনে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা যায়।দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। কিন্তু সেই আনন্দের দিনেই তাঁর নামে এসআইআর শুনানির নোটিশ পৌঁছয়। শুধু বর নন, বরযাত্রীদের মধ্যেও মোট ৩৮ জনের নামে একই দিনে শুনানির ডাক আসে। ফলে বিয়ের আনন্দের মুহূর্তে বরযাত্রীদের একটি বড় অংশকে নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে হাজিরা দিতে যেতে হয়।এর জেরে বিয়ের আয়োজনে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত সময়ে একাধিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের দিনেই এসআইআর শুনানির তারিখ পড়ে যাওয়ায় মানসিক চাপের পাশাপাশি সামাজিক সমস্যারও মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *