রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -:
পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের অলিগলিতে বয়সের সীমানা পেরিয়ে খুদে থেকে প্রবীণ – সকলের মুখেই এখন তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর তার নাম। তবে ৮৫ বছরের বৃদ্ধ চন্দ্রমোহন চ্যাটার্জ্জীর চোখের জল আর আবেগী বার্তা গোটা পাণ্ডবেশ্বরের রাজনৈতিক আবহকে এক লহমায় স্নিগ্ধ করে দিয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ত সূচির মাঝেই তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় বৃদ্ধ চন্দ্রমোহন বাবুর সঙ্গে। প্রার্থীকে সামনে দেখে বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়া মানুষটি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তার হাত দুটি ধরে ধরা গলায় তিনি বলেন: ”বাবা, তুমি শুধু নেতা নও, তুমি আমাদের ঘরের ছেলে হয়ে থেকো। আমার এই শেষ বয়সে চাওয়া একটাই- তোমার মতো মানুষ যেন আমাদের পাশে থাকে।” বৃদ্ধের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি খোদ প্রার্থীও। তিনি নতজানু হয়ে আশীর্বাদ নেন এবং বৃদ্ধকে জড়িয়ে ধরেন। এই দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে নেটপাড়ায় এবং লোকমুখে।
আট থেকে আশি – সবার মধ্যে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হলো কোনো আড়ম্বর ছাড়াই এলাকার সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছে যাওয়া তার পুরনো অভ্যাস। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে পানীয় জল- এলাকার যেকোনো সমস্যার সমাধানে তার সক্রিয় ভূমিকা সবাইকে মুগ্ধ করে। দলমত নির্বিশেষে কেউ বিপদে পড়লে নরেন্দ্রনাথ বাবুকে সর্বদাই পাশে পাওয়া যায়। বড়দের পাশাপাশি এলাকার যুবকদের সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তাদের প্রতিক্রিয়া,”নরেনদা আমাদের সব দরকারে পাশে থাকেন।” গৃহবধূদের মতে, সরকারি প্রকল্পগুলো যাতে সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছায় সেই ব্যাপারে নরেন্দ্রনাথ বাবুর নজরদারি প্রশংসনীয়।
এই বিপুল জনসমর্থন এবং প্রবীণ মানুষের ভালোবাসা নিয়ে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন,
”মানুষের এই ভালোবাসাই আমার আসল সম্পদ। ৮৫ বছরের বৃদ্ধের চোখের জল আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলল। পাণ্ডবেশ্বরের মানুষের জন্য আমি আমার শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে কাজ করে যাব।”
ভোটের ফলাফল যাইহোক, পাণ্ডবেশ্বরের মানুষের মনে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী যে জায়গা করে নিয়েছেন তা কেবল নির্বাচনী জয়-পরাজয়ের হিসেবে মাপা সম্ভব নয়। এই আবেগী জোয়ার তৃণমূল শিবিরের পালে বাড়তি হাওয়া দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

