মধু চাষ করে বিপুল টাকা আয় করছেন, আপনিও হতে পারেন বিপুল টাকার মালিক

রক্তিম সিদ্ধান্ত: মুর্শিদাবাদ:-  মৌমাছিদের কাছ থেকে মধু সংগ্রহ খুব সহজ জিনিস নয়। বিপুল কষ্ট সাধনের মাধ্যমে অস্টিয়ান প্রজাতির মৌমাছিদের কাছ থেকে মধু সংগ্রহ করে চলেছে মুর্শিদাবাদের কয়েকজন মধু চাষি, শীতকাল এবং বসন্তকালে এই মধু চাষ হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন মধু চাষীরা। কয়েকটি বাক্সের মধ্যে কৃত্রিম উপায়ে মোম দিয়ে মৌচাক তৈরি করার পর অস্টিয়ান প্রজাতির মৌমাছি সেই মৌচাকে রেখে দেন মধুচাষিরা ৷ প্রতিদিন ওই মৌচাক থেকে বেরিয়ে অস্টিয়ান প্রজাতির মৌমাছিরা দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার অতিক্রম করে সর্ষের জমি সহ বিভিন্ন ফুলের বাগান থেকে মধু সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। এবং মৌচাকে মধু সংগ্রহ করে রাখে অস্ট্রিয়ান প্রজাতির মৌমাছিরা। মৌচাকে মধু জমতে থাকার পর একসময় সেই মৌচাক থেকে প্যাডেল মেশিন নামের একটি যন্ত্রে ঐ মৌচাক গুলি ভরে। সেখানে প্যাডেল ঘোরাতে থাকলে মধু বেরিয়ে আসে। তারপরে সেই মধু খোলা বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত হয়। মধু প্রতি কিলো খোলাবাজারে ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে থাকে মধুচাষিরা বলে জানিয়েছেন তারা। বিপুল কষ্টসাধ্যের পর মধু সংগ্রহ করে কোন রকমের সংসার চলছে মধুচাষীদের, তবুও মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে আশার আলো দেখছেন মধুচাষিরা রাজ্য সরকারের হটিকালচার প্রকল্পের অধীনে এই সমস্ত বন্ধু চাষীদের ট্রেনিং দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অনুদান এবং ভর্তুকি দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন তারা। এ রাজ্যেই সাত থেকে আট ধরনের মধু পাওয়া যায়, যার রঙ ও স্বাদ আলাদা। মধু সাধারণত কালচে লাল রঙের হয় বলেই সকলের ধারণা৷ তবে যে এলাকায় যেমন ফুল, সেখানে থেকে তেমন মধু সংগ্রহ করবে মৌমাছি৷ তাই সেই মধুর রঙ ও স্বাদ হবে সম্পূর্ণ আলাদা। মৌ পালন করে এই মধু সংগ্রহ করতে হয়৷ একটি বাগানে সারি সারি বক্স, আর তাতে বেশ কয়েকটি ফ্রেমে লাখ লাখ মৌমাছি৷ আছে একটি দরজাও, যেখান থেকে সূর্য উঠলেই শ্রমিক মৌমাছি বেরিয়ে পড়ে ফুলের থেকে মধু সংগ্রহ করতে৷ প্রতিটা বক্সে একটি রানি মৌমাছি আর কয়েকটা পুরুষ মৌমাছি থাকে৷ বাদ বাকি সব শ্রমিক মৌমাছি। নিজের মতো বক্সের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায় তারা৷ আবার সূর্য ডোবার আগে প্রত্যেকে ফিরে আসে নিজের বাসস্থানে অর্থাৎ বক্সে। তবে বর্তমানে মোবাইল ফ্রিকোয়েন্সির জন্য অনেক মৌমাছি তাদের বাসস্থানে ফিরতে গিয়ে পথ হারাচ্ছে বলে দাবি মধু চাষীদের।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *