রাই প্রিয়া (ক্যানিং, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা)

নিভৃতে এক ছায়াশত্রু ঘুরে বেড়ায় রক্তের অন্তরালে,
না তার কোনো গর্জন, না কোনো যুদ্ধের আহ্বান,
কেবল মধুর প্রলোভনে গলে যায় প্রতিরোধের প্রাচীর,
অচেনা বিভ্রান্তিতে মানুষ হারায় নিজ দেহের মানচিত্র, অচির।
প্রথমে সে আসে অমৃতের ছদ্মবেশে,
সবার থালায় ছড়িয়ে দেয় অদৃশ্য প্রেমবিষ ।
ধীরে ধীরে রক্তে খোদাই করে শপথের গানে –
“তুমি থাকবে, তবে দুর্বলতার ভগ্নছন্দে,
তুমি থাকবে, তবে ভীত সন্ত্রস্ত অনিশ্চিত প্রানে”।
চোখের দীপ্তি ঝিমিয়ে পড়বে, নীরব সন্ধ্যার মতো,
শিরা উপশিরায় জমে ক্লান্তি, বিষাদময় অবনত।
শরীরী ক্ষতে রক্তে রক্তে বয়ে আনে চিরযন্ত্রণার প্রদাহ,
হৃদয় তরঙ্গে হারিয়ে যায়, জীবনের ছন্দপতন।
ডাক্তারদের কাগজে জন্ম নেয় এক অমোঘ শব্দ – “ডায়াবেটিস” ।
এই উচ্চারণে ঘুমিয়ে থাকে এক জাগ্রত মৃত্যু অহর্নিশ।
ওষুধ আর ইনসুলিনের সূঁচে বাঁধা পড়ে প্রতিটি প্রভাত,
চামচে মাপা খাবারে দিন কাটে নিখুঁত শৃঙ্খলায়।
রাত্রি জানে – নিদ্রাহীন দেহে কেমন জ্বলে নিঃশব্দ আগুন,
কেমন করে শর্করা ছড়িয়ে পড়ে কফির কাপ পেরিয়ে –
রক্তে, চোখে, কিডনি, প্যানক্রিয়াস আক্রমণে!
ধাবমান নিঃশব্দ ঘাতক ক্রুর ক্রিয়ায় জীবনকে ধরে আপাদমস্তক আলিঙ্গনে।
অবশেষে স্তব্ধ হয় হৃদয়!
না কোনো আর্তি, না কোনো ঝড়ের গানে,
যেন মহাকালের ঘড়ি হঠাৎ থমকে যায় –
সুস্বাদু মিষ্টির মায়াবী চুম্বনে …।।