মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চলেছে যাযাবর ‘বেদ’ পরিবারের সন্তান

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী: বাঁকুড়া:-

       ওরা গরীব ‘বেদ’ জনজাতি ভুক্ত। সেদিন  ছিলনা মাথার উপর ছাদ। যদিও রাজ্য সরকারের সৌজন্যে সেটা জুটেছে। বাঁকুড়ার জঙ্গলের মধ্যে ত্রিপল টাঙিয়ে ‘বেদ’ দম্পতি দীপক-টিঙ্কু তার দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। ভিক্ষা করে এবং র‍্যাশন থেকে খাদ্যসামগ্রী পেয়ে কোনোরকমে পেট চলত। সমবয়সী অন্যান্যদের থেকে তাদের সন্তান সৌরভ ছিল একটু আলাদা। পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। যেখানে পরনে পোশাক বা পেটে জোটেনা খাবার, নির্দিষ্ট কোনো আশ্রয় নাই তার কাছে পড়াশোনাটা চরম বিলাসিতা!

       কোরোনার সময় অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য তালডাংরায় যান একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার শেখ বাপি।  তার চোখে পড়ে যায় সৌরভ। সে দেখে একমনে পড়াশোনা করে যাচ্ছে ছেলেটি। মাধ্যমিক পরীক্ষা পর্যন্ত পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের সাধ্যমতো বাপি তার হাতে তুলে দেয় পড়াশোনার সামগ্রী। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সৌরভ পাশে পেয়ে যায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্যদের। ওরাই হয়ে ওঠেন ওর অভিভাবক। অনটনকে সঙ্গী করে হাড়মাসড়া উচ্চ বিদ্যালয় (উ: মা:) থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলেছে সৌরভ। প্রসঙ্গত বাপির সৌজন্যে অনেক গরীব ঘরের ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে। 

        সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মধুসূদন মুখোপাধ্যায় বললেন, সৌরভ সত্যিই খুব ভাল ছেলে। আশাকরি মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভাল ফল করবে। যতদিন পড়তে চায় আমরা ওর পাশে থাকার চেষ্টা করব। 

         বাপির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সমাজসেবী মাহী খাতুন বাপির এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সৌরভদের মত ছেলেদের পাশে থাকার জন্য সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে আবেদন করেন। এরফলে চারিদিকে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়বে, সমাজ আরও এগিয়ে যাবে।

      বাপির ছোট্ট প্রতিক্রিয়া, মানুষ হয়ে মানুষের পাশে থাকাটা কর্তব্য বলে মনে করেছি। 

      প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষক, বাপি সহ প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সৌরভ বললেন – ওরা না থাকলে আমি এতদূর এগিয়ে আসতে পারতাম না। ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকার জন্য আমাদের মাধ্যমে সবার কাছে সে হাত জোর করে আবেদন করে। প্রসঙ্গত নিজে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সৌরভ কয়েকটি ছেলেমেয়েকে শিক্ষা দিয়ে চলেছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *