মুর্শিদাবাদে জলঙ্গির কালীতলা বিলে পাকা কালভার্ট তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের

রাজেন্দ্র নাথ দত্ত:মুর্শিদাবাদ:- মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গির বিস্তীর্ণ কালীতলা বিলের মাঝে রয়েছে ৫০ ফুটের বাঁশের কালভার্ট। বিলের দু’দিকের রাস্তাকে জুড়েছে সেটি। জলঙ্গির চোঁয়াপাড়া ও সাদিখাঁরদিয়াড়-দু’টি পঞ্চায়েতের সীমানা বরাবর কালভার্টটি থাকায় কোনও পঞ্চায়েতই সেটি পাকা করতে উদ্যোগী হয়নি। ফলে দিনের পর দিন জলঙ্গির জোতছিদাম এলাকায় নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। তাঁরা সেখানে কংক্রিটের কালভার্টের দাবি তুলেছেন।

দুই পঞ্চায়েতের তরফে বিলের দু’দিকের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু মাঝের ওই কালভার্টটি তারা তৈরি করেনি। স্থানীয়রাই চাঁদা তুলে সেই কালভার্ট তৈরি ও মেরামত করেন। তাঁদের অভিযোগ, দুই পঞ্চায়েতের সদস্যদের একাধিকবার কালভার্টটি পাকা করার দাবি জানানো হলেও কেউ তাতে কর্ণপাত করেননি।

জলঙ্গির চোঁয়াপাড়া পঞ্চায়েতের প্রধান দিশানী খাতুন বলেন, আমরা জেলা পরিষদে বিষয়টি জানিয়েছি। খুব তাড়াতাড়ি জেলা পরিষদের তরফে ওই কালভার্টের কাজ শুরু হবে।

ওই কালভার্ট দিয়ে সাহেবরামপুর, চোঁয়াপাড়া, কীর্তনীয়াপাড়া, জোড়তলা, জোতছিদাম, জোতপরমানন্দপুর, ইনাতপুর, তিনগাছতলার মানুষ যাতায়াত করেন। সেটি ব্যবহার না করলে অন্তত তিন কিলোমিটার ঘুরপথে যেতে হয়। তাই বিপদ সত্ত্বেও অনেকেই ওই কালভার্ট দিয়ে যাতায়াত করেন। সাদিখাঁরদিয়াড় গার্লস হাইস্কুলের অনের পড়ুয়াও সেখান দিয়ে যাতায়াত করে। নড়বড়ে বাঁশের কালভার্টটি যে কোনও সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কালভার্ট থেকে পিছলে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

এলাকার বাসিন্দা মিলন মোল্লা বলেন, ওই কালভার্ট ব্যবহার করলে অন্তত তিন কিমি শর্টকাট হয়। তাই বিপদ সত্ত্বেও সেখান দিয়েই যাতায়াত করি। কিন্তু পঞ্চায়েত কালভার্টটি পাকা করতে উদ্যোগী হয় না।

অপর বাসিন্দা পিয়ারুল শেখ বলেন, আমরা চাঁদা তুলে বাঁশের কালভার্টটি বানিয়েছিলাম। পঞ্চায়েত, প্রশাসন, এলাকার জনপ্রতিনিধিরা ফিরেও তাকান না। এভাবে চলতে থাকলে ফের আমাদের চাঁদা তুলেই ওই কালভার্ট পাকা করতে হবে। সাদিখাঁরদিয়াড় গার্লসের ছাত্রী তাহামিনা খাতুন বলেন, ওই বাঁশের কালভার্ট পেরোতে একটু ভয় লাগে। কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *