‘সার’ – নির্বাচন কমিশনের তুঘলকি কাণ্ডে বিপাকে সাধারণ মানুষ

রিমা ঘোষ-: কমিশনের নির্দেশ মত নাম ও পদবীর বানান থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু নিয়মমাফিক হলেও     বহু ভোটারের নাম উঠেছে ‘সন্দেহজনক’ ভোটার তালিকায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ‘আনম্যাপড’ ও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই সামনে এল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তুঘলকি কাণ্ড। এতেই বিপাকে পড়তে চলেছে লক্ষ লক্ষ ভোটার। এরপর তাদের কী করণীয় সেটা ভেবেই তারা দিশেহারা। তাদের প্রশ্ন, সব ঠিক থাকার পরেও কেন তাদের সন্দেহজনক আখ্যা দেওয়া হলো? ‘সার’ সঙ্গে যুক্ত কোনো স্তরের আধিকারিকদের কাছ থেকে এই বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যাচ্ছেনা। প্রযুক্তিগত বিষয় বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের মতে এটা  রীতিমত অপমানজনক। এই অপমানের জ্বালায় কেউ যদি কোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলে তার দায় কে নেবে – নির্বাচন কমিশন অথবা রাষ্ট্র? 

      নির্বাচন কমিশনের এই তুঘলকি সিদ্ধান্তের জন্য শুনানির জন্য ডাক পড়ছে। তারা হেনস্থার শিকার হচ্ছে। ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের একটাই প্রশ্ন, সব তথ্য ঠিক থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের শুনানির জন্য ডাকা হবে? এতো নির্বাচন কমিশনারের স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। এইভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানির পেছনে তাদের কী কোনো অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করছে? – প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

       অথচ খালি চোখে ধরা পড়া এইসব ছোট্ট ভুলগুলো সংশোধনের দায়িত্ব যদি ইআরও বা এইআরওদের দেওয়া হতো তাহলে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমত। যারা ‘সার’ এর সঙ্গে যুক্ত তাদের উপর যদি নির্বাচন কমিশনারের ভরসা না থাকে তাহলে কেন ওদের নিয়োগ করা হলো? সেক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযুক্তির উপর নির্ভর করলেই হতো! অনেকের আশঙ্কা, এই অপরীক্ষিত প্রযুক্তি ব্যবহারের পেছনে আর্থিক দুর্নীতি থাকতে পারে!

       এদিকে রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য গোপন রাখতে কমিশন প্রথমে এই তালিকা প্রকাশ করতে চায়নি। সেক্ষেত্রে কিছু না জেনেই একজনকে শুনানিতে হাজির হতে হতো। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই সমগ্র কেলেঙ্কারি সামনে এসে যায়।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *