রিমা ঘোষ, ফাইনাল এক্সপোজার -:
দীর্ঘ ২২ বছরের দীর্ঘশ্বাস আর ট্রফি খরা কাটিয়ে অবশেষে ভারতসেরার সিংহাসনে ইস্টবেঙ্গল। বুধবার কলকাতার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ল লাল-হলুদ ব্রিগেড। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ইন্টার কাশীকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইএসএল চ্যাম্পিয়নের মুকুট জয় করল অস্কার ব্রুজ়োর শিষ্যরা।
ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজ়ো ফুটবলারদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, শেষ ৯০ মিনিট যেন তারা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেন। সেই মন্ত্রেই উজ্জীবিত হয়ে মাঠে নেমেছিলেন রশিদ, ইউসেফ এজেজারিরা। এদিন গ্যালারিতে উপস্থিত ৮,১১২ জন সমর্থকের গর্জন ছিল দেখার মতো। তবে ম্যাচের ১৪ মিনিটের মাথায় আলফ্রেড প্লানাসের গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার কাশী। গোল খাওয়ার পর চাপে পড়ে গেলেও দমে যায়নি লাল-হলুদ। বিশেষ করে ডান প্রান্ত ধরে বিপিন সিংয়ের একের পর এক ক্রস বিপদে ফেলছিল প্রতিপক্ষকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মরিয়া আক্রমণ চালায় ইস্টবেঙ্গল। ৪৯ মিনিটে ইন্টার কাশীর গোলরক্ষক শুভম ধাসের ভুলের সুযোগ নিয়ে সমতা ফেরান ইউসেফ এজেজারি। ১-১ স্কোরলাইনে দাঁড়িয়ে ম্যাচ যখন অমীমাংসিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তখনই অস্কার ব্রুজ়োর ট্যাকটিকাল পরিবর্তনে দৃশ্যপট বদলে যায়। ৭২ মিনিটে বিপিন সিংয়ের নিখুঁত ক্রসে পা ছুঁইয়ে জয়সূচক গোলটি করেন রশিদ। চলতি মরসুমে রশিদের প্রথম এই গোলটিই হয়ে রইল ঐতিহাসিক।
ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রক্ষণভাগ ছিল অভেদ্য। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় উৎসবের জোয়ার। ফুটবলার, কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে গ্যালারির হাজারো সমর্থকের চোখে তখন আনন্দের অশ্রু। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে ফুটবল ভারতের সিংহাসনে ইস্টবেঙ্গল। এই জয় কেবল একটি ট্রফি নয়, বরং কোটি কোটি লাল-হলুদ সমর্থকদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ণ। অস্কার ব্রুজ়োর হাত ধরে নতুন এক যুগের সূচনা করল ময়দানের ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাব।



