পশ্চিম বর্ধমানে খাতা খুলতে ব্যর্থ তৃণমূল

পশ্চিম বর্ধমানে খাতা খুলতে ব্যর্থ তৃণমূল

রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -: 

       ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রেক্ষাপটে পশ্চিম বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে এক অভাবনীয় পালাবদলের চিত্র ফুটে উঠল। ​শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত পশ্চিম বর্ধমান জেলায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় ভরাডুবি ঘটল। এবারের নির্বাচনে ঘাসফুল শিবিরকে সম্পূর্ণ ‘শূন্য’ হাতে ফিরতে হলো।

         ২০২১ সালে এই জেলার ৯টি বিধানসভা আসনের মধ্যে আসানসোল উত্তর, পাণ্ডবেশ্বর, রানিগঞ্জ সহ ৬টি আসনে জয়ী হয়ে দাপট দেখিয়েছিল জোড়াফুল শিবির। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই জয়ের ধারা বজায় রাখা তো দূরস্ত, খাতা খুলতেও ব্যর্থ হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। ৯-০ ফলে জেলাটি এখন বিজেপি শিবিরের দখলে।

         ​ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে,  শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নেমেছে। দুর্গাপুর পশ্চিম ও আসানসোল দক্ষিণ আগে থেকেই বিজেপির দখলে থাকলেও, এবার আসানসোল উত্তর ও জামুড়িয়ার মতো শক্ত ঘাঁটিও ধরে রাখতে পারেনি শাসক দল। 

       রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের নিয়োগ দুর্নীতি মামলা, কয়লা ও বালি পাচার সংক্রান্ত অভিযোগ এবং স্থানীয় স্তরে নেতাদের অন্তর্কলহ এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। এছাড়া, বন্ধ কলকারখানা খোলা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ শ্রমিক মহলে শাসক বিরোধী হাওয়াকে আরও তীব্র করেছে।

       ​এদিন ফলাফল স্পষ্ট হতেই আসানসোলে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি সক্রিয়তা এবং ধর্মীয় মেরুকরণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করেছে। অন্যদিকে, জয়ী শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই ফলাফল আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলের এই ভরাডুবি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *