রোজনামচা

স্বাতী ব্যানার্জী (কলকাতা)

রোজই সকালে আমি চায়ের কাপ
হাতে জানলায় এসে দাঁড়াই।
মনটা একটু ভালো লাগে।
মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহবধূর বিলাসিতা।
চা য়ে চুমুক দিতেই…
দরজায় কলিং বেল।
মাছআলা দাদা এসেছেন
ইলিশ ও চিংড়ি দুটোই এনেছেন।।

আমার ছেলে দুটোই খুউব পছন্দ করে।।
আসলে এখনকার প্রজন্ম ব্যালেন্স করে চলে।
মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গল লড়াই
শুধুই খেলার মাঠে …
বাকি সময় নো লাঠালাঠি।

কিন্তু মাসের শেষ, পকেট ফাঁকা,
আমি কি করি? একটা কিনতে হলে
কোনটা?
না ভরসা পেলাম না।
বললাম” দুটোই দাও। একটার
দাম রইলো বাকি
লিখে রাখ খাতায় দেখি।”

মাছ এনে রান্না ঘরে রেখে ,
বাকি চা টা শেষ করতে শেষ
কাপে চুমুক, মনে মনে বলি,
“অপূর্ণ ইচ্ছা আর অপ্রকাশিত
অনুভূতি নিয়ে কাঁদতে বসলে হবে?
ভাগ্য বদলায়…
আজ নয় কাল… ঠিকই…”
কি একটা মনে হলো…
হাতের বিস্কুটটা ভেঙে ছুঁড়ে দিলাম
জানলা দিয়ে ।
আমার জানলার পাশে উত্তর কলকাতার
গলি ঘুপচি…বড় রাস্তা বা সাজানো কোনও
সুন্দর ফুলের বাগান নয়।।
কাক, কুকুর , বিড়াল ঘোরে ওই পথে…
যদি কেউ ?
দেখলাম একটা কাক উড়ে এসে ওটাকে
মুখে নিয়ে উড়ে গেলো।
আরে , সত্যি তো এটা তো ভাবিনি …
আমার যেটা জোটে তার থেকেই সামান্য কিছু
আমি এখনও তো দিতে পারি, তাইনা?

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *