মৌসুমী মন্ডল (কলকাতা)

প্রিয় সূর্যদেব…..
প্রখর উত্তাপে,আর কত জ্বালাবে তুমি সূর্যদেব ?
খর মরুভূমিতে তৃষ্ণার্ত বেদুইনের মত শত সহস্র ক্লান্ত চোখ,
বারংবার তোমার কাছে এক পশলা বৃষ্টির জন্য
কি ব্যাকুলতা নিয়ে আবেদন জানায়,
প্রার্থনা জানায়,
মিনতি জানায় !
সেই আবেদন পত্র কেন তুমি গ্রাহ্য করছোনা ?
ছিঁড়ে ফেলছো এত নির্মমতায় !
এক পশলা বৃষ্টির নির্মল শীতলতার
আকাঙ্খিত স্পর্শের জন্য,
তাদের শুষ্ক কণ্ঠনালী চিরে যে করুণ আর্তনাদ
এই জ্বলন্ত বাতাসে বিলীন হয়ে যায়,
এক আঁজলা শান্তির জলধারার সেই দুর্ভিক্ষে
কাতর মানুষগুলোর ঘর্মাক্ত চিবুক বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রুধারা
তোমার নিষ্ঠুর বুককে কেন সিক্ত করতে পারেনা!
সূর্যদেব,
তুমিও কি কারো প্রাক্তন প্রেমিক?
প্রেমিকার বুকের সবটুকু প্রেম নিংড়ে নিয়ে,
তার কিশোরী হৃদয়ের কোমলতাকে
বিশ্বাসঘাতকতার আগুনে পোড়াতে পোড়াতে,
তার নিষ্কলুস অনুভূতিগুলোকে
প্রেম-খরার সুতীব্র উত্তাপে শুষে নিতেই কি,
তুমি এমন নিষ্ঠুর হয়েছো!
তবে কি তুমিও,
কান্নাভেজা চোখ দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছো?
তুমিও কি নিপুণভাবে
কাতর প্রার্থনায় সাড়া না দিতে শিখে গেছো!
তুমি কি পাষাণ হৃদয়!
বৃষ্টিকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে,
শেষে মুখ ঘুরিয়ে নিলে ?
সূর্যদেব,
উত্তাপের অহমিকাকে দূরে ঠেলে,
বৃষ্টির আহ্বানে সাড়া দিয়ে,
তার মেঘে ভেজা আঁখিকে তুমি কি কাজলে রাঙাতে পারোনা !
সূর্যদেব,
বৃষ্টি তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।
তোমাদের পবিত্র সঙ্গমে,
বর্ষার ভরা যৌবনে প্লাবিত হোক এই উষর প্রান্তর,
ধরিত্রীর বুকে বৃক্ষরূপে জন্ম নিক বৃষ্টির শিশু!
সবুজ হয়ে বাড়ুক তোমাদের ভ্রুণ!
বৃষ্টি তোমার প্রতীক্ষায় আছে।