মৌসুমী মন্ডল (কলকাতা)

ছেলেঃ
এই মেয়ে শুনছো?
কি এত ভাবছো তুমি বসে আনমনে?
মেয়েঃ
ভাবছি, বৃষ্টির ফোঁটা যখন ঝরঝরিয়ে নামে,
তখন আমার বেশ ইচ্ছে হয়
সবুজ পাতায় লিখবো চিঠি ,পাঠাবো এক খামে।
ছেলেঃ
তাই বুঝি?
কার ঠিকানায় পাঠাবে সেই চিঠি?
মেয়েঃ
কে আবার!
এমন চিঠি পাওয়ার ভাগ্য হয়না কখনও সবার।
ছেলেঃ
কি থাকবে সে চিঠির খামে?
কি লিখবে তুমি তার নামে!
মেয়েঃ
কি থাকবে?
সে এক গোপন তত্ত্ব,
শুনেছি আমি লোকমুখে,
মনের কথা বললে নাকি
হয় না তা আর সত্য।
ছেলেঃ
বলোনা তুমি একটিবারে,
কি এমন লিখবে তুমি?
আঁকবে ছবি সেই খামে !
মেয়েঃ
তুমি শুনতে চাও?
ছেলেঃ
হ্যাঁ চাই।
যদি আমি হঠাৎ করে সে চিঠির দেখা পাই!
মেয়েঃ
জানো কি লিখবো তাতে?
লিখে দেবো আমাদের ভালবাসার গল্প।
অভিমানটাও লিখবো সাথে!
সেটাও থাকবে অল্প অল্প।
থাকবে সে চিঠি জুড়ে ইচ্ছে রাশি রাশি।
আর বলবো ভালবাসি।
ছেলেঃ
বাহ!
বেশ তো তোমার সেই মিষ্টি চিঠি খানি ।
মেয়েঃ
তাহলে আর বলছি কি,
চিঠিটা যে আমার কাছে বড্ড বেশি দামি!
ছেলেঃ
তারপর আর কি লিখবে তাতে?
মেয়েঃ
আরও লিখবো আমার প্রেমে ব্যাকুল হওয়ার কথা,
একটু খানি হারালেই সে,
পাবে মনে ব্যাথা।
আরও কি লিখবো জানো?
আমার খোলা চুলে সে গন্ধ মেখে থাকবে।
ভালবাসি বলে জড়িয়ে ধরে কপোলে আদর আঁকবে।
ছেলেঃ
লাগছে ভীষন শুনতে ভালো
মিষ্টি মধুর কবিতাখান,
তুমি কিন্তু ইচ্ছে হলেই লিখতে পারো গান।
মেয়ে:
গান কেনো?
আমি তো লিখে রেখেছি আমার প্রেমের কলতান!
জানো,
এমন কত হাজার স্বপ্ন বুনেছি ছোট্ট নিড়ে?
অনন্ত কোটি কবিতা লিখেছি শুধুই তাকে ঘিরে!
ছেলেঃ
এই যে শোনো, তোমায় বলি ডেকে,
একটুখানি বসতে দেবে হাতে হাত রেখে?
চিঠিটা কি পাঠাবে তুমি আমার ঠিকানায়?
ভালবাসায় ভরিয়ে দেবো তোমার আঙিনায়।
মেয়েঃ
সত্যি তুমি পারবে সে চিঠির জবাব দিতে!
সবটুকু পথ হাঁটবে তুমি হাতে হাতটি রেখে?
