রমেশ রায়, মায়াপুর:- শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ৫৪০তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে শ্রীধাম মায়াপুর ইসকন মন্দিরে শুরু হয়েছে উৎসবের জোয়ার। গত ৩১শে জানুয়ারি শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে আগামী ৫ই মার্চ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। মোট ৩৪ দিনব্যাপী এই মহোৎসবে দেশ-বিদেশের লক্ষাধিক ভক্তের সমাগমে মায়াপুর এখন কার্যত একটি ‘মিনি ওয়ার্ল্ড’-এ পরিণত হয়েছে।
মায়াপুরের আকাশ-বাতাস এখন কৃষ্ণনামে মুখরিত। দীর্ঘ এক মাসব্যাপী এই অনুষ্ঠানসূচিতে রয়েছে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া:
বিশ্ব বৈষ্ণব সম্মেলন ও বিশ্ব শান্তি যজ্ঞ।
প্রায় ৭২ কিমি দীর্ঘ নবদ্বীপ মণ্ডল পরিক্রমায় ১৫,০০০ ভক্ত অংশ নিয়েছিলেন।
বিভিন্ন ভাষায় ভাগবত পাঠ, সেমিনার, ভজন-কীর্তন, নাটক এবং মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী সমন্বয়ে চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
গৌড়-নিতাই ও রাধামাধবকে নিয়ে বর্ণাঢ্য চলেছে গঙ্গা পূজা ও শোভাযাত্রা।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য মন্দিরের দ্বার উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। গোটা মন্দির চত্বরকে সাজানো হয়েছে মনোরম আলোকমালা ও ফুলে। উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০০০ বিদেশি ভক্তের আগমন ঘটেছে। আগত তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। এ ছাড়া উৎসব চলাকালীন প্রতিদিন বিনামূল্যে প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও রয়েছে। 13 তারিখ শুক্রবার সকাল 8.45নাগাদ পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে গৌড় পূর্ণিমার শুভ সূচনা করা হয়। সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গৌড় পূর্ণিমা উৎসবের চেয়ারম্যান জয় পতাকা স্বামী মহারাজ এবং সহকারী চেয়ারম্যান শ্রীমৎ ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামী মহারাজ, মহামণ্ডল পরিক্রমার চেয়ারম্যান শ্রীমৎ লোকনাথ স্বামী মহারাজ সহ জিবিসির বিশিষ্ট প্রভু মহারাজগণ। ইসকনের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস জানান
আগামী ৩রা মার্চ মঙ্গলবার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব দিবস বা দোল পূর্ণিমা যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় পালন করা হবে। তবে ইসকন মন্দিরের একটি বিশেষত্ব হলো, এখানে বাইরে আবির বা রং খেলা হয় না। পরিবর্তে, সারাদিন ব্যাপী ভজন ও সাধনার মাধ্যমে ভক্তরা নিজেদের ‘কৃষ্ণানুরাগে’ রাঙিয়ে তোলেন। সন্ধ্যায় মহাপ্রভুর আবির্ভাব মুহূর্তে পুষ্পাঞ্জলি এবং বিশ্ব শান্তির কামনায় বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।