সামান্য ভুলের জন্য ছাত্রকে বেধড়ক মার গৃহ শিক্ষকের !! ভাইরাল ভিডিও !! আটক শিক্ষক

রাকেশ লাহা,অন্ডাল, পশ্চিম বর্ধমান :-

ইংরেজি বর্ণমালার P এর পর কি হয় ?এই প্রশ্নটিই জিজ্ঞেস করেছিল গৃহ শিক্ষক নিরজ বার্নওয়াল। শিক্ষকের বকুনির ভয়ে উত্তর দিতে পারেনি এল.কেজির. ছাত্র চন্দন মাঝি। তারপরই শিক্ষক জামার হাত গুটিয়ে ছাত্রকে সপাটে চর, মাথা নামিয়ে পিঠে একাধিক ঘুঁষি এরপর ছাত্রের কলার ধরে উপরে তুলে জোড়ে আছাড়  দেয় মাটিতে। যন্ত্রণায় কান্নায় ভেঙে পড়ে ছাত্রটি। 

নিমেষের মধ্যেই ছাত্রের প্রতি শিক্ষকের অমানবিক আচরণটি ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। নেট দুনিয়ায় নির্মম প্রহারের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সেই শিক্ষক আগেভাগেই চম্পট দেয় এলাকা থেকে ।

শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে পরিবারের লোকজন থেকে শুরু করে এলাকাবাসী এমনকি নেট দুনিয়ার মানুষ সকলেই সরব হয় ।

 ঘটনাটি ঘটে, গতকাল অন্ডাল থানার অধীন জামবাদ এলাকায়। সূত্রমোতাবেক জানা যায়, জামুরিয়া থানার কেন্দাফাঁড়ির অধীন পড়াশিয়া গ্রামের বাসিন্দা পেশায় গৃহশিক্ষক নিরজ বার্ণওয়াল। অন্যান্য দিনের মতো মঙ্গলবার অন্ডাল থানার অধীন জামবাদের একটি বাড়িতে পড়ানোর জন্য যাই নিরজ বাবু। সেখানে অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের মতোই উপস্থিত ছিল জামবাদের বাসিন্দা এল. কেজির. ছাত্র চন্দন মাঝি। সেই সময় চন্দনকে শিক্ষক ইংরেজি বর্ণমালা পড়াচ্ছিলেন এবং শিক্ষকের সামান্য বকুনিতে ভয় পেয়ে চন্দন ইংরেজি বর্ণমালার P এর  পর কি হয় সেটি বলতে পারেনি। আর তারপরেই ঘটে অঘটন, জামার হাত গুটিয়ে একেবারে রুদ্রমূর্তিতে ময়দানে নেমে পড়ে গৃহশিক্ষক নিরজ বার্ণওয়াল। কমবয়সী খুদে ওই পড়ুয়াকে সামান্য ভুলের জন্য শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত করে শিক্ষক, পরে মাটিতে আছাড় মারা হয় এমনটাই ভাইরাল সেই ভিডিওতে উঠে এসেছে। 

তবে দ্রুত এই ঘটনা সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই জামুরিয়া থানার কেন্দাফাড়ির অন্তর্গত পড়াশিয়া গ্রামে শিক্ষকের ওই বাড়িতে চড়াও হয় ছাত্রের পরিবার এবং এলাকাবাসী।

 তবে এই ধরনের ঘটনার আঁচ পেয়েই আগেভাগেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় নিরজ বার্ণওয়াল। পরে অবশ্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে এবং বর্তমানে পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার হরিপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত গৃহ শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। 

একজন ছাত্রের প্রতি শিক্ষকের এমন অমানবিক আচরণে এখন ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। এলাকাবাসী থেকে শুরু করে পরিবারের একটাই দাবি এমন নৃশংস ঘটনার সাথে যুক্ত শিক্ষকের অবিলম্বে উপযুক্ত শাস্তি পাওয়া উচিত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *