শিবানী চক্রবর্তী (শ্রীরামপুর)

ছাড়া ছাড়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাড়িঘর,
বাঁশ বাগান, গ্রামাঞ্চল,
বড়দিঘী তাল গাছে ঘেরা।
সন্ধ্যার পর এখানে শিয়ালের উপদ্রব বেশি।
একটু দূরে জলাভূমি।
দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য কাছাকাছি দোকানপাট আছে। বিশেষ প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য তিন ,চার মাইল দূরে যেতে হয়।
এখনো এত উন্নতির পরও গাড়ির যাতা য়াত এর ব্যবস্থা খুব কম। সাইকেল স্কুটার নিয়ে যাতায়াত হয় বেশিরভাগ। রাস্তার গায়ে লাইটপোস্ট ছাড়া ছাড়া আলো, জলাভূমি পার হয়ে যাতায়াত করতে হয়।
কিছু কিছু জায়গাতে, জমা জল থাকে, পাশে পাশে হোগলা পাতার , বন, ওই জমা জল বা খানাখন্দে বেশ ভালোই জ্যান্ত মাছ বা আরো অন্যান্য মাছ জমে থাকে।
গ্রামের মানুষরা মাছ ধরে রাত্রি জেগে ওই জলাতে সেচের ব্যবস্থা করে, হোগলার কুঁড়েঘর তৈরি করে, এবংঐ মাছ নিয়ে তারা হাটে বাজারে বিক্রি করে। তারা পাতার জালে রাত্রিবেলা মাটির উনান তৈরি করে ভাত রান্না করে, মাছ পুড়িয়ে খায়।
জলাভূমির ধারে ধারে গাছ আছে একটু দূরে দাহকার্যের ব্যবস্থা আছে, সারাদিনের পর ওরা ক্লান্ত হয়ে যায় পরিশ্রম করে, তারপর রাতে তারা নিদ্রায় মগ্ন থাকে একজন করে প্রহরী থাকে যাতে মাছ না কেউ চুরি করে নেয়।
যিনি প্রহরি আছেন হঠাৎ বাইরে পায়চারি করতে করতে লক্ষ্য করে দূরে যেন কার কান্নার আওয়াজ পায়, আবার হোগলা পাতার উপর মর্মর শব্দ পদধ্বনির হেঁটে আসার।
আবার পলকের মধ্যে দেখছে সাদা ওড়না বেশ খানিকটা লুটানো সামনের দিকে এগিয়ে আসছে, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে, বড় মুহূর্তে আর কিছু দেখতে পাই না,
কিছুটা নিজেকে সামলে নেয়ার পর , আবার দেখতে পাচ্ছে নিজের চারিপাশে ঘুরে যাচ্ছে, ছায়া মূর্তি।
তখন নিজে নিজে ভাবছে , আমি কি ভুল দেখছি? নাকি সত্যি? নাকি ধাঁধা? কিচ্ছু না ধুস।
মুহূর্তে অট্টহাসির প্রতিধ্বনি
বলে ওঠে তুমি নাকি ধাঁধা দেখেছো? সম্মুখে অর্ধ দন্ত চোখে আলোর জ্যোতি সাদা শাড়ি ওড়না লুটানো, সাথে সাথে ছেলেটি মাটিতে পড়ে গেল গোঙ্গানি আওয়াজ,
ভেতর থেকে আওয়াজ পেয়ে আরো ভেতরে যারা ছিল, কি ব্যাপার শুনতে পেয়ে চোখে মুখে জল দিয়ে চেতনা ফেরায়। ওরা বুঝতে পেরেছে পরে সব শুনলো।
ওই জলাতে মাঝে মাঝে শোনা যায় মাছ চাইতে আসে নাকি সুরে, চোখে তাদের দেখা যায় না, হাততালির, আওয়াজ পাওয়া যায়।
ঘটনাটি সত্য, প্রেতাত্মা আছে।
