ভোটের কড়চা

রাই প্রিয়া (ক্যানিং)

ভোটের আগে পাড়ায় নামে রকমারি দল,
প্রতিটি দলে আলাদা ঢঙ – আলাদা কৌশল।
দুয়ারে এসে বলেন হেসে -“কোথায় ঝাঁটা রাখেন?”
উঠোন জুড়ে ধুলো দেখে, নিজেই ঝাঁট দিতে থাকেন।
ঝাড়ুর তালে প্রচার ও করেন, উঠোন হলো ঝকঝকে,
রাস্তাগুলো বেহাল হয়ে কঁকিয়ে ওঠে হাহাকারে।
ক্যামেরা ধরে কর্মী বলেন – ” স্যার একটু হাসুন,”
ঝাঁটা হাতে পোজ দিয়ে বলে – আমায় ভালবাসুন।

আরেকটা দল রান্নাঘরে বাসন মাজে চুপে,
ফেনার ভিতর স্লোগান ভাসে, মিষ্টি কথার রূপে।
হাঁড়ি কড়াই টুং টাং বাজে, স্লোগানের রোল ওঠে,
কাজের চেয়ে ছবির ঝলক, বেশি পড়ে চোখে।
পুকুরপাড়ে কাপড় কাচে সাবান ঘষে জোরে,
সঙ্গে স্লোগান ওঠে যে – “দাগ তুলবো ঘরে ঘরে”।
জল ছিটিয়ে পাঞ্জাবিতে ভিজে যায় তাঁর গা,
সবাই হেসে লুটোপুটি, থামে না আর তা।

আরেক নেতা কোলে যে নেয় রোদনরত শিশু,
কান্না থামে ক্যামেরাবন্দি – দৃশ্য সে বেশ কিছু।
দাদুর পায়ে তেল মালিশ, দিদিমার ও অল্পস্বল্প,
নেতা নেত্রীদের এমন সেবা – যেন রূপকথারই গল্প।
মানুষ দেখে অবাক হয়ে, চেয়ে থাকে স্থির,
ভোট প্রচারের নমুনা জমে এক্কেবারেই ক্ষীর।

গলির মোড়ে চায়ের ঠেকে হাল হকিকত পুছে ,
পাঁ – চ বছরের দূরত্ব যেন একদিনেই দেবে মুছে।
শেষে যখন ভোট টা মেটে, নিভে যায় সব আলো,
ঝাঁটা থাকে কোনায় পড়ে, বাসন যে সেই কালো।
নেতা নেত্রীর সে ব্যস্ততায়, আর খুঁজে পাওয়া ভার,
ভোটের আগে এত্ত আপন, পরে হন পগারপার।

হাসির মোড়কে করি প্রকাশ, সত্যেরই আভাস,
“ভোটের কড়চা” পড়লে পাঠক – কেমন এই প্রকাশ ? …।।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *