তখন ঠিক দুপুর

ছবি বিশ্বাস (নদীয়া)

অনেকক্ষণ ধরে পুতুল দুটো কে
মনের মতো করে সাজালাম,
একটা বর একটি বউ,

পুতুল নিয়ে সংসার সংসার খেলা,
বর বাবুটির সকাল বেলায় অফিস যাবার তাড়া,
প্রখর রোদে পুড়ে গড়বে স্বপ্নের রাজ প্রাসাদ,

পুতুল বউটির অগোছালো চুলের খোঁপা,
কপাল চুয়ে গলার ভাঁজে ঘাম,
চোখের তলায় জমা কালো পলি ,

যেন বয়ে যাওয়া নদীর মতো,
ক্লান্তি নেই, কোন অভিযোগ নেই,
সকল কাজের শেষে
সন্ধ্যা নামলে প্রদীপ হাতে অপেক্ষাতে ,

বর পুতুলটি আকাশ ভরা জ্যোৎস্না নিয়ে
ফিরে সন্ধ্যা রাতে,
শক্ত হাতে হাতটি রেখে
আগামীদিনের দরজা খুলে,
কখনও ঝগড়া কখনও খুনসুটি ,

হাসি কান্না অভিমানে মাখামাখি যত্নে গড়া
তাদের সংসার,

ভালোবাসার সোনার ফসল —
আঁতুড় ঘরে সন্তান সুখ থেকে
রান্না ঘর হয়ে চলে যায়
অনেকটা সময় ,দিন- মাস- বছর,

তার পর এক দিন হঠাৎ স্নানের পরে ভিজে চুলে কয়েকটি সাদা চুল রোদে চিকচিক করে ওঠে,
সরল হাসি মাখা পুতুল বউটি
প্রবল চিৎকার করে ওঠে,

ধীরে ধীরে আমার চোখ খুলে
ঘুম ভাঙ্গে,জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি —
সামনের নিম গাছে দুটো বুড়ো ময়না বসে আছে।
তাঁরা ঠিক সেই আগের মতই আছে
ভীষণ মিষ্টি হাসিখুশি।।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *