অসমাপ্ত কবিতা

বৃষ্টি নূপুর (কলকাতা)

এই যে হাসি, এই যে এতো আনন্দ —
আর কয়েকটা দিনের অতিথি মাত্র।
তারপর সময় নিঃশব্দে ডেকে বলবে—
“এবার ফিরতে হবে..
ফিরতে হবে নিজের ঠিকানায়…”

ব্যস্ততার ভিড়ে হারিয়ে যাবে
একসাথে কাটানো বিকেলের গল্প,
চায়ের কাপে জমে থাকা আড্ডা,
আর চোখের কোণে লুকিয়ে থাকা অশ্রু-জল।

তারপর নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়ে
পা বাড়াতে হবে নতুন দিনের পথে—
নতুন মানুষ, নতুন সম্পর্ক,
নতুন দায়িত্বের মালা গাঁথতে…!

জীবন মানেই তো প্রবহমান।
তাই ক্ষণিকের জন্যে
অগণিত মানুষের ভিড়ে মিশে
নিজেকে একই ছন্দে বেঁধে ফেলা;
তারপর নিয়তির নীরব আঙুল দিয়ে
সব সুরকে আলাদা আলাদা স্রোতে
ভাসিয়ে দেয়া…

হয়তো আমরা কেউ কারও নই—
ঠিক…! তবুও
তবুও কিছু মানুষের জন্যই
একটা সময়ের আকাশ
এত আপন হয়ে ওঠে।
তারপর ঋতু বদলায়,
পথ বদলায়,
বদলায় আমাদের ঠিকানা —
শুধু বদলায় না
একসাথে কাটানো বিকেলের রঙ।

যে হাসিগুলো আজ বাতাসে মিশে যাচ্ছে,
কাল তারা নীরবতার ভেতর
অদৃশ্য পাখির ডানার মতো
মনের আকাশ ছুঁয়ে যাবে।
সময় আসলে কিছু কেড়ে নেয় না,
সে শুধু মুহূর্তগুলোকে
স্মৃতির আরেকটি নামে ডাক পাঠায় ।

হয়তো আগামী বছর
এই পথ, এই আড্ডা, এই আনন্দ
একইভাবে ফিরে আসবে না;
তবু কোনো এক ব্যস্ত দুপুরে
অকারণে থমকে যাবে মন—
মনে হবে,
কোথাও যেন ফেলে এসেছি
চেনা মুখ চেনা স্মৃতি…

এরই নাম জীবন—
কিছু দিনের একসাথে থাকা,
তারপর ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়া।
তবু দূরত্ব কখনও মুছে দিতে পারে না
একসাথে কাটানো সময়ের গন্ধ।

তাই তো মনের মণিকোঠায়
রয়ে যায় কিছু বিকেল,
রয়ে যায় কিছু এলোমেলো হাসি,
কিছু না-বলা অভিমান,
কিছু অকারণ খুনসুটি—
যারা সময়ের বুক পেরিয়েও
নিঃশব্দে বেঁচে থাকে
চিরকাল অসমাপ্ত কবিতার মতো…

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *