উত্তরবঙ্গ আপডেট ✍ Final Exposer

কোশিশ ৩.০ — সহানুভূতির সেতুবন্ধনে এসআইটি শিক্ষার্থীরা

কোশিশ ৩.০ — সহানুভূতির সেতুবন্ধনে এসআইটি শিক্ষার্থীরা

ভাস্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি:-

১৪ নভেম্বর শিশু দিবস উপলক্ষে সারা দেশ যখন আনন্দ ও উৎসবের আবহে মেতে ওঠে, তখন সেই উদযাপনের সুর আরও গভীর অর্থে স্পর্শ করে গুলমা চা-বাগানকে। শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ব্যাচেলর অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট (BBA-HM) বিভাগ এদিন আয়োজন করল বস্ত্রদান ও স্টেশনারি বিতরণ কর্মসূচি ‘কোশিশ ৩.০’— একটি উদ্যোগ যা এখন টানা তৃতীয় বছরে পড়ল।

শিশু দিবসের মূল চেতনা—নিষ্পাপ মুখের উজ্জ্বল হাসি, শিক্ষার অধিকারের দাবি এবং সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন—এ দিন যেন বাস্তবে ধরা দিল চা-বাগানের খোলা মাঠে। এসআইটি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন জামাকাপড়, পড়াশোনার সামগ্রী ও ছোটদের প্রিয় চকলেট পেয়ে চা-বাগানের শিশু ও পরিবারগুলো মুখ ভরিয়ে হাসলেন। শুধু দান নয়, একসঙ্গে সময় কাটানো, গল্প করা ও খেলাধুলার মাঝে দিনটি পরিণত হয় এক সুন্দর মানবিক মিলনমেলায়।

শিক্ষার্থীদের কাছে এই কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রকল্প নয়, বরং শেখার একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা—সহানুভূতি, নেতৃত্ব, দলগত কাজ এবং সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের এক মূল্যবান পাঠ।

বিভাগীয় প্রধান শ্রীমতি দেবযানী মুখোপাধ্যায় এই উদ্যোগের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন,

“আমাদের লক্ষ্য সহানুভূতিশীল, মানবিক ও দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যসেবা নেতৃত্ব তৈরি করা। ‘কোশিশ’ শুধুমাত্র একটি ইভেন্ট নয়—এটি একটি আন্দোলন যা আমাদের শিক্ষার্থীদের শেখায়, নেতৃত্ব শুরু হয় সেবা দিয়ে এবং শেষও সেবাতেই। আজকের আয়োজন সেই দর্শনকেই প্রতিফলিত করেছে।” তিনি আরও বলেন, "এদিন আমরা শুধু শিশু নয়, আমরা মোট ১০০জনের হাতে বস্ত্র তুলে দিতে পেরেছি। তৎসহ ৫০ সেট স্টেশনারি ছোট খুঁদে বন্ধুদের হাতে তুলে দিয়েছি।"

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিব্যক্তিতেও ধরা পড়ে কৃতজ্ঞতা ও আপ্লুত মন। বাসিন্দা সন্তোষ ঠাকুর বলেন, “কাপড়ের চেয়েও বেশি মূল্যবান আজ তারা আমাদের শিশুদের সঙ্গে যে ভালোবাসা ভাগ করেছে। সেটাই আমাদের কাছে আসল উপহার।”

অন্য এক স্থানীয় রমেশ থাপা বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের সম্প্রদায়ে আশার আলো জাগায়। শীতের আগেই এই সহায়তা সত্যিই অসামান্য।”

শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির প্রফেশনাল স্টাডিজ কলেজের অধ্যক্ষা ডঃ অরুন্ধতী চক্রবর্তী বলেন, “এসআইটি সবসময় সহানুভূতিশীল নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপনে বিশ্বাসী। একটি ছোট্ট সদয় কাজই বড় পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা আজ শ্রেণিকক্ষের বাইরে এসে মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে—এই অভিজ্ঞতাই ভবিষ্যতে তাদের আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করবে।”

বলাবাহুল্য, একদিনের এই মানবিক উদ্যোগ গুলমা চা-বাগান এবং এসআইটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি করল এক অটুট সম্পর্ক। ‘কোশিশ ৩.০’ তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান নয় — সহানুভূতির হাত ধরে এগিয়ে চলার এক অনুপ্রেরণার গল্প।

F

Final Exposer

Final Exposer এর রিপোর্টার