কাজল মিত্র, ঝাড়খন্ড:- গোবিন্দপুর-সাহেবগঞ্জ জাতীয় মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। নারায়ণপুর থানার পাবিয়ার কাছে অনিয়ন্ত্রিত এক বালুবোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুইজনকে ধাক্কা মারে যার ফলে দুর্ঘটনায় দুধনী গ্রামের বাসিন্দা রাজা মণি মণ্ডল ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং রাইডিহি বাসিন্দা পরমেশ্বর সিং গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুপুর 12:30 টার দিকে দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে অনিয়ন্ত্রিত ট্রাক্টরের ইঞ্জিনটি রাস্তার পাশের জঙ্গলের একটি গাছের ডালের উপড়ে গিয়ে আটকে পড়ে । দুর্ঘটনার পর দেহটি ট্রাক্টরের নিচে আটকা পড়ে, পরে জেসিবিকে ফোন করে প্রশাসন কঠোর পরিশ্রমের পর তা বের করে আনে।ঘটনার পর গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন, ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। অবরোধের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ,ওই এলাকায় অবৈধ বালুর ব্যবসা চলছে, যার ওপর প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।অভিযোগ আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য আধা ঘণ্টা পর অ্যাম্বুলেন্স আসে।গত এক সপ্তাহে নারায়ণপুর ও জামতারা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় 4 জন প্রাণ হারিয়েছেন।
খবর পেয়ে নারায়ণপুর ও জামতারা থানার পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নারায়ণপুর সার্কেল অফিসার (সিও) দেবরাজ গুপ্তা, পুলিশ অফিসার সাকেত প্রতাপ দেব এবং মনোজ কুমার মাহতো গ্রামবাসীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। এই উপলক্ষে জেলা পরিষদের সভাপতি দীপিকা বেসরা এবং জেলা সদস্য সুরেন্দ্র মণ্ডল পৌঁছান। সড়কে ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা ও অবৈধ বালু পরিবহনে প্রশাসনের প্রতি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন জনপ্রতিনিধিরা।
প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপত্তা জোরদার করার আশ্বাস দেওয়ার পরে জ্যাম পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পুলিশ নম্বর প্লেট ছাড়া ট্রাক্টরটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
**
