রনিতা মল্লিক (হুগলী)

আষাঢ়ের বিকেল,আস্তে আস্তে অন্ধকার হয়ে আসছে আকাশ টা।বাইরে থেকে একটা চিৎকার ক্রমশ সামনে ভেসে আসছে…..।কোথায় রে সব কোথায়! গলাটি গদাধর দাদু আমাদের পাড়ার সবথেকে একজন রসিক এবং বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ। কথায় -কথায় মানুষ হাসায়,মানুষকে আনন্দ দেয় ।তার চার ছেলে, চার বৌমা আর পাঁচ নাতি-নাতনি সকলেই একসাথে থাকে।বলা চলে গদাধার দাদুকে তারা মাথায় করেই রাখে।মাঠ থেকে দৌড়াতে- দৌড়াতে ঘরের দিকে আসছে আর বলছে কোথায় রে সব দাদুভাই-দিদিভাইয়েরা সকলে ঘরে ঢোকো, প্রচন্ড ঝড় আর বৃষ্টি এলো বলে।আর বৌমারা তোমরা গরম গরম খিঁচুড়ি চাপাও গো,খিচুড়িতে একটু বেশি আলুও দিও। এই
বৃষ্টি নেমে এলো বলে, আজ জমিয়ে কলাপাতায় খাওয়া যাবে।আমিও এই সুযোগে উঠান থেকে চারটে কলা পাতা কেটে নিই।গদাধর দাদুর চিৎকারে তাঁর নাতী-নাতনীরাও দৌড়ে তাঁর সাথে বাড়িতে চলে এসেছে। খিচুড়ির কথা শুনে সকলে কি খুশি কেউ নাচছে-কেউ গাইছে -কেউ বা হাততালি দিচ্ছে। চার ছেলেও আকাশের কালো মেঘ দেখে মাঠ থেকে বাড়িতে চলে এসেছে সবে,এসেই সকলে মিলে একসাথে রাতের খিচুড়ির আয়োজন শুরু করেছে। গদাধর দাদুর দোতলা- মাটির বাড়ি। এই ঝড়ের সময় সকলে নীচের ঘরেই থাকে।তিনি নাতি-নাতনীদের একসাথে নিয়ে কতকি গল্প শোনাচ্ছেন। আর বৌমা- আর ছেলেরা মিলে রাতের
জমজমাট খাবারের আয়োজন শুরু করেছে।
বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি পড়ছে। সন্ধ্যা আটটা নাগাদ রাতের খাবারের সমস্ত আয়োজন একদম প্রস্তুত।বড়ো বৌমা রমা হাঁকেন- বাবা চলে আসুন আপনার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে, কচি-কলাপাতায় গরম খিচুড়ি দেওয়া হয়েছে,খিচুড়ির আলুও বেছে দিয়েছি আপনার পাতে, সাথে আপনার প্রিয় ডিম ভাজা। আসুন বাবা।বড় বৌমার কথা শুনে গদাধর দাদু তাঁর নাতি-নাতনিদের সাথে নিয়ে দাওয়ায় চলে আসে।বাচ্ছারাও কি খুশি – আনন্দে চিৎকার করছে,হাততালি দিচ্ছে। এরপর গদাধর দাদু বলে ও ছোটো বৌমা আমাদের উঠানের লেবুগাছটা থেকে যে লেবু দুপুরে তুলে এনে ছিলাম,বেঁচে আছে নাকি আর? ছোটো বৌমা সরলা বলে হ্যাঁ বাবা আছে তো, আমি এখনি কেটে আনছি। মেজো আর সেজো বৌমাও হাতে -হাতে খাবার এগিয়ে দিচ্ছে, বাচ্ছাদের খাইয়ে দিচ্ছে। তখন বৃষ্টির গতি একদম কম, বাইরে ঝিঁঝিঁ পোকা আর ব্যাঙের ডাক প্রকৃতিকে একটা আলাদা সৌন্দর্য প্রদান করছে। আর এদিকে চলছে এই গদাধর দাদুদের যৌথ পরিবারের বৃষ্টির রাতের ভুরিভোজ। পাঁচ নাতি -নাতনী, চার ছেলে আর চার বউমা নিয়ে তার ভরপুর সংসার এভাবেই দিন কাটে তাদের আনন্দে।আর বৃষ্টির দিনটা তাদের কাছে এভাবেই একটা উৎসবের মতো কাটে।এভাবেই গদাধর দাদুরা ভালো থাকে।।