রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -:
বাঙালি সনাতন ধর্মে শক্তি আরাধনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র উৎসব হলো ‘ফলহারিণী কালীপুজো’। জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে এই পুজো উদযাপিত হয়। হিন্দু শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এবং লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই পুজোর তাৎপর্য গভীর এবং বহুমাত্রিক।
‘ফলহারিণী’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো ‘যিনি ফল হরণ করেন’। এখানে ফল শব্দের দুটি অর্থ প্রকাশ পায়— প্রথমত পার্থিব ফল এবং দ্বিতীয়ত মানুষের কর্মফল। বিশ্বাস করা হয়, এই বিশেষ তিথিতে দেবী কালীর আরাধনা করলে তিনি ভক্তের সমস্ত অশুভ কর্মফল, পাপ এবং মনের কলুষতা হরণ করে তাকে পুণ্য ও মুক্তির আলোয় আলোকিত করেন।
এই পুজোয় দেবীকে আম, জাম, লিচু, কাঁঠালসহ মরশুমি ফল অর্পণ করার বিশেষ রীতি রয়েছে। তবে এর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য হলো নিজের অহংকার, লোভ ও মোহরূপী ‘কর্মফল’ দেবীর চরণে উৎসর্গ করা।
বাঙালি সংস্কৃতিতে এই দিনটির একটি ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে। ১২৮০ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যায় শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব দক্ষিণেশ্বরে নিজের স্ত্রী সারদা দেবীকে ‘জগদম্বা’ জ্ঞানে পুজো করেছিলেন, যা ‘ষোড়শী পুজো’ নামে খ্যাত। তিনি তাঁর সাধনার সমস্ত সুফল শ্রীসারদা দেবীর চরণে সমর্পণ করেছিলেন। নারীশক্তিকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানোর এই অনন্য দৃষ্টান্ত ফলহারিণী কালীপুজোকে আরও মহিমান্বিত করে তুলেছে।
ফলহারিণী কালীপুজো কেবল একটি আচারসর্বস্ব পুজো নয়; এটি মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করে আত্মশুদ্ধি লাভ এবং জগতের কল্যাণের জন্য মহাশক্তির আবাহন।

