বাবা রবীন্দ্রনাথ আর আমার কবিতা…

রুমকী দত্ত (কোলাঘাট)

জানো রবি ঠাকুর…
বেশ কিছুদিন কবিতা লেখার পর
একদিন খুব সাহস করে বাবার কাছে
আমার কবিতার খাতাটা নিয়ে গিয়েছিলাম।
এক একটা কবিতা পড়ে শোনাচ্ছিলাম,
আর মনে মনে ভাবছিলাম
আজ বাবা নিশ্চয়ই খুব খুশি হবেন।
হয়তো বলবেন, “ভালো লিখেছিস”,
হয়তো মাথায় হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ দেবেন।
সেই ছোট্ট প্রশংসাটুকুর জন্য কী অসম্ভব অপেক্ষা ছিল আমার চোখে!
বাবা মন দিয়ে সব শুনলেন…
আমি বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম
একটা মন্তব্য, একটা মুগ্ধতা, একটা হাসির আশায়।
তারপর বাবা ধীরে ধীরে বললেন,
“কবিতা ভালো হয়েছে…
কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো হয়নি।
দেখিসনি, কী মসৃণ তার লেখার গতি!
কত সহজে ছন্দ বয়ে যায়!
ওরকম গভীরতা, ওরকম সৌন্দর্য
এখনও আসেনি তোর লেখায়…”
সেদিন কথাগুলো শুনে
মনটা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
মনে হয়েছিল, আমার এত আনন্দ,
এত আবেগ সব বুঝি এক মুহূর্তে মাটি হয়ে গেল।
নিজের লেখা হঠাৎ খুব ছোট মনে হচ্ছিল।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বুঝেছি,
বাবা আসলে আমাকে ছোট করেননি।
তিনি তাঁর মেয়েকে এমন এক উচ্চতায় দেখতে চেয়েছিলেন, যেখানে তুলনা করার জন্যও তিনি বেছে নিয়েছিলেন বিশ্বকবিকে।
আজ ভাবি,
সব বাবা-মায়ের স্বপ্নই হয়তো রোদ্দুরের মতো…
তারা সন্তানের ভেতরে এমন সম্ভাবনা দেখতে পান, যা সন্তান নিজেও তখনও দেখতে শেখেনি।
তাই সেদিন বাবা আমার কবিতার
ভুল ধরেননি শুধু,
তিনি আমার সামনে আকাশটা আরও বড় করে খুলে দিয়েছিলেন।
কারণ তিনি জানতেন,
যে মেয়েকে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তুলনা করা যায়,
সে একদিন নিজের মতো করেই আলো ছড়াবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *