“বাবুই পাখির বাসা”

মৌসুমী মন্ডল (কলকাতা)

চুপটি করে শোনো,বলি ঘটনা এক সত্যি
বুজরুকি বা বানানো নয়,মিথ্যে নয় এক রত্তি।

দুপুরবেলা সবাই যখন ভাত-ঘুমটা দিচ্ছে,
আমার তখন মনে জাগে আজগুবি এক ইচ্ছে।

বাবুই পাখির নাম শুনেছি,শিল্পী নাকি মস্ত,
ঠোঁটেই নাকি বোনে তারা দারুন বাসা আস্ত।

আমার হঠাৎ খেয়াল হলো,সেই বাসাটা দেখবো,
তারপরে তা খাতার পাতায় রং-তুলিতে আঁকবো।

যেমন ভাবা,তেমন ই কাজ…..দুপুর রোদের মধ্যে,
একলা আমি বেরিয়ে পড়ি, বাবুই খোঁজার যুদ্ধে।

ঘেমে-নেয়ে ক্লান্ত হয়ে দাঁড়াই আমি থমকে,
মগডালেতে তাকিয়ে দেখে গেলাম আমি চমকে।

পাতার ফাঁকে ওটা কি ,অমন করে ঝুলছে,
হালকা হাওয়ায় কি ই বা ওটা অল্প অল্প দুলছে?

অসাধারণ বুনন কার্য,নকশা টাও খাসা,
আচ্ছা!তবে এটাই বুঝি বাবুই পাখির বাসা।

ভালো করে দেখবো বলে ঘাড় ঘোরালাম যেমনি,
বাসা ছেড়ে বেরিয়ে আসে বাবুই কর্তা-গিন্নী।

আমার দিকে তেড়ে এসে জানায় তারা স্পষ্ট,
আমি তাদের দুপুরবেলার ঘুম করছি নষ্ট।

আমার নামে এবার নাকি মামলা তারা ঠুকবে,
কর্তা বাবুই খুব ক্ষেপেছে,কে’ বা তাকে রুখবে!

ঘটবে কিছু এমনতরো কেই বা আগে জানতো!
হাজারটি বার কানে ধরে করি তাদের শান্ত।

সাধে বলে বা-বু-ই পাখি?বাবুসাহেব ভঙ্গী!
কিচমিচিয়ে আলাপ জমায় সে ও তার সঙ্গী।

বাবুই দুটোর বিশাল হৃদয় করেই দিলো মাফটা,
আর যেন না জ্বালাই তাদের বললো সোজা সাপ্টা।

কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের ভীষণ দিলাম ছুট,
ঝিম ধরানো দুপুর গুলো এমন ই সব অদ্ভুত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *