স্বাতী ব্যানার্জী (কলকাতা)

দুর্নিবার যন্ত্রনায় ক্ষয়ে গেলে
মৃত্যু তখন কাঙ্ক্ষিত হয়।
বার বার ভাগ্যের দোহাই দিয়ে
বেঁচে থাকার গ্লানিতে বড়ো
অপমান বোধ হয়।
নিজেকে শেষ করার
সাহস শক্তি তো সবার নয়।।
প্রিয়মানুষদের একটু
বেশি সময় দেখে যাওয়ার
ইচ্ছা অনাবশ্যক বিলাসিতা
নয় ; জানে তবুও যখন তা
প্রিয় মানুষগুলোরই অপছন্দ
তার অনুপস্থিতিতে ভালো
বাঁচার আশায় তারা মাতে
তাদের মুক্তি দিতেই তার
মন আজ মৃত্যু চায়। ।
কিন্তু বিধাতা কি দেয়?
বয়সে ছোট আত্মজ
কিংবা আত্মজাকে
যখন তুলসী চন্দনে সে
বিদায় দিতে বাধ্য হয়।
বুকের পাঁজর ভেঙে যায়।।
তবুও তাঁকে বাঁচতে হয়।।
প্রশ্ন, বুড়ি মরবে কবে ?
মরতে মরতেও সে
বার বার করে জমের
দুয়ার থেকে দিব্যি ফেরে।
বৌমা বলে,” আপনার
ভাই ,বোন ,স্বামী ,মেয়ে
সবাই তো ডেংডেঙ্গইয়ে
স্বর্গ সুখে, আপনি আর
কতদিন, জাবর কেটে
ব্যাটিং করে যাবেন মা?”
হুম সেও তো চায়না ।
এর উত্তর তো অজানা।।
পরলোকের পথ হেঁটে
যাবার নয়, আয়ু থাকলে
থাকতেই তো হয়। মৃত্যুতে
প্রশান্তি, অমলিন সৌন্দর্য
শান্ত নীবর প্রশ্নহীন পবিত্র
অকপট মৃত্যু ,ঘুমের মত।
অভিযোগহীন শীতলতা |
নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া ক্ষয়াটে
অস্তিত্বের অনিবার্য নিরপেক্ষ
সুন্দর এক পরিসমাপ্তি ।
কিন্তু যারা চায় ;তারা পায়না।
আর যারা না চায়, অকালে
চলে যায় কাঁদিয়ে।। বহু
আয়ু নিয়ে অবহেলা কুড়িয়ে
কিছু জন আবর্জনা হয়ে
পরিজনদের অসুবিধা করে
সংসারের কোনে দলা পাকিয়ে।।