সংবাদদাতা, ফাইনাল এক্সপোজার -:
রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর আসানসোল শিল্পাঞ্চলে রমরমিয়ে চলছে ‘ঝাড়খণ্ড লটারি’-র এক অবৈধ কারবার। সালানপুর, দেন্দুয়া, রূপনারায়ণপুর থেকে কুলটি ও নিয়ামতপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এই চক্রটি তাদের জাল বিস্তার করেছে। সরকারি বৈধ লটারির ফলাফলকে ঢাল করে মাত্র ১০-১২ টাকায় টিকিট বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে এই সিন্ডিকেট।
তদন্তে উঠে এসেছে বেশ কয়েকজন ব্যক্তির নাম যারা মূলত এই অবৈধ ব্যবসার মূল কারিগর। পুলিশি নজরদারি এড়াতে তারা অভিনব পদ্ধতিতে ক্রেতাদের হাতে লিখে লটারির নম্বর ধরিয়ে দিচ্ছে। এই কারবারে সরকারি রাজস্বের ব্যাপক ক্ষতি হলেও বিক্রেতারা মোটা কমিশনের লোভে এই মরণফাঁদে সাধারণ মানুষকে জড়িয়ে ফেলছে।
এই ইস্যুকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি যুব নেতা অভিজিৎ রায়ের দাবি, প্রশাসনের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাল্টা তৃণমূল জেলা সম্পাদক শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রশাসনের মদতেই এই দুর্নীতি বাড়ছে। যদিও পুলিশের দাবি, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনিক নাকের ডগায় কীভাবে দিনের পর দিন এই বিশাল সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকছে? স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা অভিযানে কাজ হবে না, অবৈধ লটারির মূল পান্ডাদের খুঁজে বের করে তাদের আইনের আওতায় আনলেই কেবল এই চক্র ভাঙা সম্ভব। এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আসানসোলবাসী।

