জয়া সান্যাল (কলকাতা)

একসময় ঋতুর বৈচিত্র্যে রং এর বাহার ছিল
এখনকার মতো আলুথালু বেশে ধরা দিত না
বৈশাখের তপ্ত দুপুর এখনকার পিপাসার্ত চাতক নয়
বরং পানকৌড়ি হয়ে ডুব সাঁতারে শীতল হতো।
মায়ের কোলের কাছে শুয়ে
গল্প শুনতে শুনতে স্বপ্ন দেখতো অপু দূর্গার।
আষাঢ় শ্রাবণের কালো মেঘের ঘনঘটা
আর একঘেয়েমি নাছোড়বান্দা বৃষ্টিও আনন্দে
কাগজের নৌকা ভাসাতো।
মা , কাকিমা মিলে শ্যামা নৃত্যনাট্যের চরিত্রগুলো
আবৃত্তি করতো
বাইরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি, আর ঘরে রবি ঠাকুরের গীতবিতান।
ভাদ্র , আশ্বিন আসতেই পূজোর গন্ধে ঘুম আসত না
বাউল কাকা একতারা নিয়ে গান গাইতে আসতো
আমাদের ছোট্ট ফ্ল্যাটের দালানে
একতারা বাজাতো, তারপর
নতুন জামা কাপড় উপহার নিয়ে
চলে যেত বাউল কাকা।
কার্তিক, অগ্রহায়ণ উৎসব শেষের মনখারাপ
নবান্নের গন্ধ ছড়িয়ে আসর জমাতো।
পৌষ মাঘের শীতের চাদরে পিঠে পুলির নিত্য আনাগোনা
এ বাড়ি ও বাড়ি থেকে খেজুর রসের সুবাসে
আর চড়ুইভাতির আড্ডায় হৈচৈ ফেলে দিত।
ফাল্গুন, চৈত্রের বাতাসে
নতুন বছরের শুভেচ্ছা বয়ে আনা সময়
আর গাছে গাছে মহুয়া আর শাল ফুল সমাবেশ
জানালায় উঁকি দেওয়া দখিনা বাতাসের গায়ে লেগে থাকা
মিষ্টি গন্ধে বুঁদ হয়ে থাকা
সব মিলে মিশে বছরের শেষ দিন গুলো পাড় করে দিত।
ঋতুর বৈচিত্র্যময় কর্মসূচি এখন পালিত হয়
রুটিন মাফিক পালাবদলের নির্ধারিত সময়ের গণ্ডিতে।
মায়ের মুখে শ্যামা নৃত্যনাট্যের লাইন গুলো আর শোনা হয়নি
শোনা হয়নি বাউল কাকার আগমনী গান
পিঠে পুলির আসা যাওয়া থাকলেও
খেজুর রসের গন্ধ এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে নেওয়া হয়নি
কত কাল একটাও কাগজের নৌকা ভাসানো হয় নি
শাল মহুয়ার মিষ্টি গন্ধে বুঁদ হওয়া হয়নি
বহ কাল কেটে গেছে ঐ ঋতু গুলো
আর ফিরে আসেনি
আর হয়তো আসবেনা কোন দিনই।