মায়া সাহা (কলকাতা)

আমি রোজ স্বপ্ন দেখি !
স্বপ্নে আসে মা ঠাকুমার মুখে শোনা গল্পকথা।
স্বপ্নে ফিরে আসে অতীতের সেই মূল্যবান স্মৃতি!
শস্য শ্যামলা মাতৃভূমির নদীর ঘাটে
ছেলেমেয়ের মহোল্লাসে নৌকা বাওয়!
সারি সারি-আম -জাম- তাল- তমালের
প্রাকৃতিক শোভায় মেটে – তৃষ্ণার্ত নয়নের সার্থকতা।
স্বপ্ন দেখি,
চাষের জমিতে চাষী বৌ এর হাতে বীজ বপনে
সোনালী ধানেতে মাঠ সেজে ওঠা !
পাড়ার ছেলেমেয়েরা মেঠো পথে
মহানন্দে হেঁটে গুরুমশাইয়ের পাঠশালে তে
দলেবলে পড়তে যাওয়া ।
কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে গায়েতে চাদর পেঁচিয়ে
সব ভাইবোনে মিলে খেজুরের রস পান করে
থরথর করে কাঁপতে থাকা!
স্নানের সময় দলবল মিলে সাঁতার কেটে
পুকুর পার হওয়া।
পাল্লা দিয়ে মহানন্দে সাপলা তুলে আনা !
পাড়ার মাঠে তে সকল ছেলেমেয়ে জুটে
কিৎ কিৎ ,কানামাছি, ডাংগুটি, রুমাল চুরি
নানান খেলায় মত্ত হওয়া।
স্বপ্নে আমি খুঁজে চলি
মা- ঠাকুমার বুননের দরদী নকশী কাঁথা।
আজ আমি অভাববোধ করি সেই আতিথেয়তা
যেথা গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে
প্রত্যেকে প্রত্যেকের তরে করেন অতিথি সেবা!
ঘুম ভাঙতে দেখি নাড়ী বিচ্ছিন্ন আমার মাতৃভূমি!
যন্ত্রণায় ছটপট করতে করতে,
মা জন্ম দিয়েছেন আর এক রপসী সন্তান!
সে যে ভারতের প্রতিবেশী- রূপসী বাংলাদেশ,
অতঃপর আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ – মিলেমিশে থাকব বেশ।