নীহার চক্রবর্তী (নদীয়া)

ভোলাদা আমার চেয়ে বয়সে বেশ বড় ছিল। শিক্ষিত বেকার। ক্রিকেট বলতে পাগল। আবার সিপিএম করত। ওই স্কুলের চাকরির আশায় আর কি।
আমি তখন স্কুল-ছাত্র। মাধ্যমিক দেব হয়তো।
একদিন ভোলাদার কাছে সিপিএম নিয়ে কিছু বলতে চাইলাম।
সঙ্গে-সঙ্গে হাত নেড়ে বলল, ‘একদম এ বিষয়ে নয়। ভারতের পরের খেলা কবে?’
যাহোক, ভোলাদার মনোভাব বুঝে থেমে গেলাম। বুঝলাম কিছু একটা গোলমাল আছে।
আর একদিন ভোলাদার মুখে সিপিএম সম্বন্ধে কিছু জানতে চাইলাম।
আবার সেই হাত নাড়া।
ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল, ‘উঁহু, এ বিষয় নিয়ে কিছুই বলা যাবে না। কাল কপিলদেব কেমন বল করল বল।’
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এত বাধা কেন, দাদা?’
ভোলাদা অম্লান-হেসে তখন উত্তর দিল, ‘রাজনীতি মানেই বিষ, বুঝলি? খেলার মতো পবিত্র ব্যাপারকে বিষাক্ত করে তুলবে। আমাদের মধ্যে যে ক্রিকেট উন্মাদনা একেবারে থেমে যাবে। ওসব বাদ দে। নিজের পড়াটা ভাল ক’রে কর, আর আমার সঙ্গে ক্রিকেটে সঙ্গত দে।’
বুঝলাম সেদিন থেকে রাজনীতি ব্যাপারটা কতটা ভয়াবহ। তারপর থেকে ও আর মাথাতেই আনিনি। তড়তড় করে ক্লাস টপকেছি। সেইসঙ্গে ভোলাদার সঙ্গে ক্রিকেটে মেতে উঠেছি। বয়সে দুজনের ব্যবধান অনেকটা হলেও ক্রিকেট আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপন করে। রাজনীতি হলে হয়তো… থাক, আর নয়।
সেই ভোলাদা পরে এক স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক হন। আর তার অনেক পরে বাংলার শিক্ষক হলাম। অঙ্ক শেখাল জীবনধারা। আর সাহিত্য তাতে আরও গতি এনে দিল।