মধুরিমা মুখোপাধ্যায় রায় (আরামবাগ)0

ভালো লাগছেনা রোগটার-
কোনোও ওষুধ আবিষ্কার হয়নি আজও।
প্রথম বন্ধুর পরামর্শে আপনি-
কাউন্সিলিং করাতে গেলেন।
কাউন্সিলার ভদ্রমহিলার দুটো ব্রেক-আপের পর-
দু নম্বর বিবাহে মনে চাপ চলছে,
তার উপর আপনার ভালো না-
লাগার চাপ!
কড়কড়ে হাজার টাকা খোয়ালেন,
তবু ভালোলাগাটা ফিরে পেলেন না!
দ্বিতীয় বন্ধুর পরামর্শে-
মনোচিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেন।
চেম্বারের পরিবেশে-ভালো লাগছেনা-
ব্যাপারটার পারদ আরও চড়লো,
অবশেষে এক থলে ওষুধ নিয়ে-
বাড়ি ফিরলেন।
দু-তিন দিন ঘুমালেন,
মাথা ভারি হলো,
তবুও ভালো লাগছেনা-অনুভূতিটা যাচ্ছেনা,
বরং বেড়েই চলেছে!
তৃতীয় বন্ধুর পরামর্শে-
বেড়াতে গেলেন।
বরফের পাহাড়-রডোডেনড্রন গুচ্ছ-
রঙিন পতাকা –
ধুর-তাও কেন ভালো লাগছে না!
চতুর্থ বন্ধুর পরামর্শে-
একটা গেট-টুগেদার রাখলেন বাড়িতে।
মিমুল এসেই বলে উঠলো–
বিশুদা তুমি বড্ড রোগা হয়ে গিয়েছো।
তিমির বললো-মুখটা এতো শুকনো লাগছে কেন?
দোলা বললো–ফিস ফিঙ্গারের ভেটকি মাছটা টাটকা নয়গো।
এষণা বললো–তোমার বাড়ির পর্দার রঙগুলো দেওয়ালের রঙের সাথে ঠিক ম্যাচ করেনি।
আরও আরও কতো কমেন্ট এলো গেলো–
ভালো না লাগাটা এবার ফেটে বেরোতে চায়!
নাহ আর কারুর পরামর্শে কাজ নেই।
কদিন রোজ সকাল থেকে প্রতিটা-
টেবিল চেয়ার মুছে চলেছেন আপনি,
পাখা পরিষ্কার,ঝুল ঝাড়া পালা করে করছেন।
চাল বাছছেন আপনি,
বউকে অফিস থেকে ফিরে-
রান্নাঘরে সাহায্য করছেন আপনি,
খুশি হয়ে বহুদিন পর আপনার বউ-
যখন আপনার পছন্দের মুড়িঘন্টটা-
রেঁধেছে আজ-কেমন যেন ভালো লাগছে!
রাত্রে শুয়ে আছেন-বহুদিন পর চেনা হাতটা-
যখন মাথার চুলে বিলি কাটছে,
কেমন যেন ভালো লাগছে!
আসলে ভালোবাসা ফিকে হয়ে গেলে-
কিচ্ছু ভালোলাগেনা তখন।
অলস জীবনে ভালো না লাগাগুলো আরও বেশি করে চেপে বসে আর ভালোবাসা ফিরিয়ে এনে-
সম্পর্কের সমীকরণ মেরামত করে-
এমন ওষুধ এখনও বাজারজাত হয়নি।