নার্গিস পারভীন (পূর্ব বর্ধমান)

মৃত্যু অনেক দেখেছি আমি
সব মৃত্যু সুখের নয়
অনেক সাদা দাঁতের মাঝে
অনেক দাঁত হলদে হয়।
কড়া পড়া পায়ের পরে
খর রোদটা সরে না,
পুড়ে যাওয়া চামড়া ওদের
নতুন করে পোড়ে না।
রুক্ষ চুলের কুঠুরে গাল
ধনীর পাশে বসে না,
গরিবের বউ হলুদ দাঁতের
পরিপাটি ঠিক মানায় না,
পেট সার ছেলের সরু গলায়
মোটা ভাতটুক জোটে না,
ছেঁড়া ফ্রকে দাঁড়িয়ে মেয়েটা
ছেঁড়া টা তার জোড়ে না
তারপরেও রোদ ঢোকে না
জোৎস্না তখন কল্পনা।
বেঁচেবর্তে দেখেছি যাদের
তারা ধনী হয় না
দেখেছি তারা ধনী বানাতে
নিজের দামটা পায় না।
কি পেয়েছে কষলে হিসাব
লুট হয়েছে জিম্মি তে
অনাদায়ে চোর হয়েছে
অপবাদ ভার মাথাতে,
শক্ত চোয়াল শক্তি গিলে
হতাশায় চোখ মুছেছে
ভালো থাকতে চেয়ে শুধু
ঠগবাজিতে হেরেছে।
ওদের গলার নিষ্ঠা স্লোগানে
ক্ষমতার দেয়াল উঠেছে
ওদের থাকার ছাউনি ছাদ
কে বা কারা দিয়েছে?
তবুও ওরা শান্ত মনে
ন্যায়ের পথেই থেকেছে।
ভিক্ষা নয় প্রাপ্য হক
কেউ কি তাদের দিয়েছে,
ভালোবাসার প্রতিদানে ওরা
তিরস্কার শুধু সয়েছে।
এরপরেও বলবে ওরা
মানুষ হবার যোগ্য না
চৌর্যবৃত্তি ঘৃণা করলে
মানুষ তাকে বলে না?
ওরা জানে ওদের পরিচয়
বেদ পুরাণের কথা কি
ওরাই বাইবেল কোরআন কথা
পবিত্রতার শানে কি?
যুগে যুগে যারা ছদ্মবেশে
শান্তির বাণী এনেছে
ওরাই যীশু হযরত কৃষ্ণ
মানুষের ভ্রম গুনেছে,
হার মানেনি কখনো ওরা
প্রেম স্বচ্ছতায় থেকেছে,
ওরাই মানুষ সত্যের ফানুস
যুগের স্মারক লিখেছে।
ওরাই আকাশ পূর্ণিমা চাঁদ
জ্যোৎস্না রোদের হিল্লোলে
বুক চিতিয়ে দিন এনেছে
যুগ এনেছে কল্লোলে,
তার পরেও অনাথ ওরা
সমাজ ওদের থুয়েছে
ওদের নিয়ে হাজার লেখা
মৌ গুঞ্জন ছুঁয়েছে,
বাড়ি গাড়ি রথের দড়ি
সবখানেতে ওদের কাঁধ
জাগলে ওরা প্লাবন হবে
বাঁধবে না, কো ঠুনকো বাঁধ,
সময় থাকতে ভাবো এবার
অন্যায় অনেক হয়েছে,
মানুষ ওরা ধুঁকছে ওরা
ওদের সময় এসেছে।।
