মৌসুমী মুখার্জী (পশ্চিম মেদিনীপুর)

আমি আছি, তাই তুমি আছো হে ঈশ্বর.. তোমার করুণায় তৃপ্ত বন জঙ্গল পশুপাখি মানুষ সকলেই,
তোমার অস্তিত্ব তো এদের ঘিরেই,
পাওয়া না পাওয়া চেতনে অবচেতনে তোমাতেই লয়।
তোমাতেই বিলীন হবে সকলেই
একদিন না একদিন,
মানুষকে শ্রেষ্ঠ করে বানালে নিজেরই জন্যে,
তোমারই চরণে ঠাঁই দিলে,
পূজো উপাচার পার্বণ সর্বোপরি তোমাদের লীলা প্রচার সেই মানুষই করে।
পাখি পশু ফুল ফল গাছ নিজেদের মতোই যে যার কাজ করে।
প্রবল শক্তিধারী তুমি.. কিন্তু অপেক্ষমান সেই মানুষেরই জন্যে,
তুমি প্রবল হয়েও দুর্বল,
সান্নিধ্যে আসতে কি ভয় পাও?
তোমার সৃষ্টিকেই ভয়!!!
মানুষ শত কষ্ট সহ্য করেও কেমন বেঁচে আছে দেখে যাও।
অব্যক্ত রোগের যন্ত্রণাও সহ্য করছে দাঁত চিপে,,
কত শিশু অনাথ হয়ে আজ ভিখারী,
কত মা কোলছাড়া আজ …তোমার অবাঞ্ছিত লীলায়, বিপর্যয়ের পর বিপর্যয়।
তুমি অসীম শক্তিধর হলেও
তোমার প্রবলতা শুধুই স্বর্গে,,
তুমি সৃষ্টি করেই খালাস।
নেমে এসো একবার মর্ত্যে মানুষের মধ্যে,
তোমার সৃষ্টি দেখে যাও।
তোমার ভোগের থালা পরিপূর্ণ সুখাদ্যে, গ্রহণ করবে সেই তো ভোগ-বিলাসী,
অনাহারে,অভুক্ত শুধু দেখে যাবে কতগুলো প্রাণ।
রোজ রোজ তোমায় নিয়ে পুতুলখেলা, যাগযজ্ঞ,
অথচ বিনা চিকিৎসায় চলে কেমন করে অনাথ শিশুদের কালাতিপাত।
তুমি তো দেখেও দেখো না কত মুমূর্ষ রুগী যুঝছে জীবনের কঠিন দিনগুলি,
নিয়ে নাও তরতাজা প্রাণ, দৃষ্টি হীনের মত,
কেন সৃষ্টি করলে একদল ঘৃণ্য সম্প্রদায় মানুষ?
পিশাচ রক্তচোষা,
বুভুক্ষুর মতো হায়নার মতো চিবিয়ে খায় কচি হাড় থেকে বুড়ো নারী হাড়।
দুমুঠো ভাতের জন্যে ক্ষুধার্ত কত মুখ অসহায়, অনিকেতে পড়ে থাকে রাস্তায়।
দিলে যাদের অফুরন্ত, নয়ছয় প্রতিনিয়ত।
যদি সাহস থাকে তো নেমে এসো মর্ত্যে ,,
কিভাবে অসহায় মানুষ দিনরাত ঠকছে,,
দাঁতালেরা মানুষের রক্ত কিভাবে চুষে নিচ্ছে, বেকারের চাকরীর প্রবঞ্চক।
কিভাবে ….কোটি কোটি ..শেম শেম
যদি আসো তো সাধারণের জন্যে ……
নেমে এসো সেই অবহেলিত দারিদ্রতার মাঝে।
ধর্ম যখন বিলুপ্ত প্রায় তখনই আবির্ভাব হয় তোমার….
বধ্য হতে সেই অধার্মিক মানুষের হাতে,
শান্তি কি সত্যিই বিরাজে!!!!