নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ১১, গাফিলতিতে মৃত্যুর ধারায় গ্রেফতার ডেকরেটার্স সংস্থার কর্ণধার

রমেশ রায়, কলকাতা:- নরেন্দ্রপুরঃ সোনারপুর উত্তর বিধানসভা এলাকার খেয়াদহ–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১-এ। এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে নিখোঁজ রয়েছেন ২০ জন। দমকল বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানায় মামলা রুজু হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে নিউ পুষ্পাঞ্জলি নার্সারি প্রাইভেট লিমিটেড তথা ডেকরেটার্স সংস্থার কর্ণধার গঙ্গাধর দাসকে। মঙ্গলবার রাতে গড়িয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।

বুধবার রুটিন মেডিক্যাল পরীক্ষার পর গঙ্গাধর দাসকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডেকরেটার্স ও মোমো কোম্পানির মালিকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির জেরে মৃত্যুর ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই ধারায় আরেকটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রুজু করছে পুলিশ। গ্রেফতারির পর গঙ্গাধর দাস পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, মোমো কারখানার গাফিলতির কারণেই আগুন লাগে এবং তাতে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যবসা সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৫শে জানুয়ারি রবিবার গভীর রাতে প্রথমে একটি ডেকরেটার্সের গোডাউনে আগুন লাগে। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের একটি মোমো গোডাউনে। অভিযোগ, দু’টি জায়গাতেই অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ছিল না। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ডেকরেটার্সের গুদামের ভিতরে রান্নাবান্না চলছিল এবং সেখানে মদ্যপানও হচ্ছিল। ধূমপান, অন্য কোনও অসাবধানতা অথবা ইলেকট্রিক স্টোভ ফেটে যাওয়ার কারণেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে অনুমান। একবার আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর আর তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার খেয়াদহ–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসে নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

এদিকে পূর্ব কলকাতায় জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনাস্থলে এসে ফিরহাদ হাকিম দাবি করেন, ২০০৬ সালের পর আর কোনও জলাভূমি ভরাট করা হয়নি। তবে বামেদের পক্ষ থেকে ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ২০০৬ সালের উপগ্রহ চিত্র সামনে এনে সিপিএম নেতা তুষার ঘোষ অভিযোগ করেন, মন্ত্রী ভুল তথ্য পরিবেশন করছেন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *