ফুল বনাম কাঁটা

নার্গিস পারভীন (বাজেপ্রতাপপুর, পূর্ব বর্ধমান)

ফাগুনের প্রথম পরশ;
কৃষ্ণচূড়া হতে চেয়েছিল ছেলেটা,
মধ্য ফাগুনের গনগনে আগুনের আঁচে
হৃদয় পুড়িয়ে
এখন আর বসন্ত দেখেনা!

ছেলেটা গোলাপ হতে চেয়ে
গোলাপের কাঁটা হলো
কিভাবে যেন!

মনোরমার তীব্র ভৎসনায়
সহজেই বুঝে গেল
সুন্দর হতে মেধা লাগে;
অর্থের প্রাচুর্য না থাকলে, কখনোই
ফুল আর কাঁটার তফাৎ থাকে না!

ছেলেটা তাই অনেকগুলো শব্দ চারা সাজিয়ে
বিভোর হলো উদ্যান বানানোর স্বপ্নে,
ফুল ফুটল,
সুন্দরে বিহ্বল হয়ে
নিরলস মালি প্রেম ছড়ালো আকাশে,
বাতাসের গায়ে, অন্তরীক্ষে, মাটিতে –
ছেঁটে ফেললে কান্ডের
প্রতিটা কাঁটা;

ফুলের আস্তরণে ঢেকে দিতে চাইল
পথের সমস্ত ক্ষত,
এবড়ো খেবড়ো পাথরের শাসানি,

আজীবন ফুলের সাজি হাতে
চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে
নিজেকে কন্টক মুক্ত করতে
পেরিয়ে গেল
কয়েকটা শতাব্দী তার;

সবুজের মাঝে চির বসন্তের
ফুল হতে বোধহয়,
স্বপ্নের পৃথিবীতে ফুল হলো তাই
মাথায় নিয়ে কাঁটার মুকুট;

স্বপ্নের ভিড়ে এখন সে
প্রেম-রাজ্যের মহারাজা–
পাখির কলতানে,
ঊর্বশী ঝরনার ছন্দে,
মেঘের ভেলায়!

মনোরমার অট্টহাসি শুনতে শুনতে
আর এক ফাগুনে,
আচম্বিতে কখন যেন
বৃন্ত হতে খসে পড়ল মাটিতে;

ঝরে পড়া সে ফুলে
তখনও সুবাস ছিল,
শুধু কাঁটা ছিল না আর!

তাই বৃষ্টিও ধরা দিল, শেষে
এই প্রথম অঝোরে, মাটির গায়ে মাটি ছুঁয়ে!!

TAGS
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus (0 )