
ভাইফোঁটা ও পৌরাণিক কাহিনী
রিমা ঘোষ:-
কালীপুজো শেষ হওয়ার পর হিন্দুদের ঘরে ঘরে শোনা যাবে –
‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।
কাঁটা যেন নড়ে না, আমার ভাই যেন মরে না।’
এটি হিন্দুদের অন্যতম বড় উৎসব ভাইফোঁটা নামে পরিচিত। অধিকাংশ হিন্দু দ্বিতীয়ার দিন ফোঁটা দেয় বলে এটি ভ্রাতৃদ্বিতীয়া নামেও পরিচিত।
ভাইফোঁটার পেছনে লুকিয়ে আছে দুই ভাইবোন যম ও যমুনার কাহিনী। কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে মৃত্যুর দেবতা যম তার বোন যমুনার বাড়িতে এলে যমুনা ভাইকে অভ্যর্থনা জানান এবং ফোঁটা দিয়ে তার দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করেন। যমরাজও বোনকে আশীর্বাদ করে বলেন – যে ভাই এই দিন বোনের বাড়িতে গিয়ে তার কাছে ফোঁটা নেবে তার অকালমৃত্যুর ভয় থাকবে না।
অপর এক কাহিনী অনুযায়ী, শীতা তার ভাই মহাবীরের মঙ্গলের জন্য ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেন ও প্রার্থনা করেন। ফলে রাজা মহাবীর বিজয়ী হন। কেউ কেউ বলেন নরকাসুরকে বধ করার পর শ্রীকৃষ্ণ তার বোন সুভদ্রার কাছে এলে সুভদ্রা তার কপালে ফোঁটা দেয়। সেই থেকে ভাইবোনের পবিত্র সম্পর্কের উৎসব হিসেবে ভাইফোঁটা উৎসব পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়।
ভাইফোঁটার দিন বোন তার ভাইয়ের জন্য পুজোর আয়োজন করে এবং ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করে। কপালে চন্দনের টিপ দিয়ে ভাইকে মিষ্টিমুখ করিয়ে বোনেরা ভাইয়ের হাতে উপহার তুলে দেয়। ভাইরাও তাদের বোনকে উপহার দিয়ে থাকে। এইভাবে পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হয়।

