সন্তোষ মন্ডল, আসানসোল:- উন্মুক্ত পরিবেশে গাছের তলায় শীতকালীন রোদ মেখে চিত্তরঞ্জনের দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয় তাদের বার্ষিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করল। অত্যন্ত পরিশীলিত প্যান্ডেল সজ্জায় মনোরম শান্তিনিকেতনী পরিবেশের আবহ তৈরি করে দু’দিনের এই অনুষ্ঠানমঞ্চ। ১৮ এবং ১৯ ডিসেম্বর বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়। ১৮ তারিখ কলেজের নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। ২০০’র বেশি নতুন পড়ুয়া সহ প্রায় সাড়ে ৬০০ ছাত্রছাত্রী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সকলকে অভ্যর্থনা জানিয়ে কলেজের নির্দিষ্ট পাঠক্রমের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক দিকগুলিতে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান অধ্যক্ষ ত্রিদিব সন্তপা কুণ্ডু। অনুষ্ঠানের আয়োজক স্টুডেন্টস কমিটির পক্ষে অমিতাভ বিশ্বাস জানান নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এই কলেজ যাতে প্রিয় হয়ে ওঠে সেজন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল। এদিন নবীন বরণের পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য, এনএসএস বিভাগ কর্তৃক নাটিকা পরিবেশিত হয়। এছাড়া ছিল মডেলিং ইভেন্ট – যেখানে নজর কাড়ে সুরজ সাউ, বৃষ্টি মন্ডল।
১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান চত্বর আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। কলেজের ১৮ টি ডিপার্টমেন্টের তরফে বিশেষ প্রোজেক্ট উপস্থাপিত করা হয় ছাত্রছাত্রী অভিভাবক এবং বিশেষ ব্যক্তিদের সামনে। উল্লেখ্য, দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম বার্ষিক উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন বিভাগ তাদের কলাকুশলতার পরিচয় তুলে ধরলো প্রোজেক্টের মাধ্যমে। এই বিষয়গুলি তুলে ধরার জন্য অধ্যাপক অধ্যাপিকাদের সঙ্গেই বিশেষ মনোনিবেশ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের পড়ুয়ারা। সার্বিক বিচারে প্রথমবার এই প্রোজেক্ট প্রদর্শনীতে প্রথম স্থান অর্জন করে ইংরেজি বিভাগ, দ্বিতীয় ফিজিক্স এবং কেমিস্ট্রি বিভাগ যৌথভাবে এবং তৃতীয় হয় সংস্কৃত বিভাগ। এছাড়াও বিশেষ পুরস্কার লাভ করে কলেজের সেন্টার ফর রিসার্চ এ্যন্ড প্রিজারভেশন অফ কালচারাল হেরিটেজ এবং বাংলা বিভাগের প্রোজেক্ট। এক্ষেত্রে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডি ভি বয়েজের অধ্যক্ষ বৈদ্যনাথ ওরাং, বিশিষ্ট সাংবাদিক বিশ্বদেব ভট্টাচার্য এবং প্রান্তভূমি পত্রিকার সম্পাদক অভয় মণ্ডল। কলেজের অধ্যক্ষ শ্রীকুন্ডু প্রাপকদের হাতে পুরস্কারগুলি তুলে দেন।

দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয়ের উজ্জ্বল এই বার্ষিক উৎসবে সংগীত পরিবেশন করেন প্রথিতযশা তিন শিল্পী সুজয় ভৌমিক, সৌরভ সরকার এবং ময়ূরী দে। তাদের বিভিন্ন স্বাদের সংগীত ছাত্র-ছাত্রীদের মন জয় করে নেয়। উল্লেখ্য, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয় ন্যাকের মূল্যায়নে উচ্চ স্থানে থাকা একটি বিশিষ্ট উচশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পেয়েছে। কলেজ বিভিন্ন দিকে তার উৎকর্ষতা বজায় রেখে আই এস ও ২১০০১ এবং ১৪০০১ শংসাপত্র অর্জন করেছে। নির্দিষ্ট ধারার পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মমুখী বিভিন্ন বিভাগও চলছে এই কলেজে। চলছে আইটিআই শুরুর প্রক্রিয়া। পশ্চিম বর্ধমান জেলার একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয় সার্বিকভাবে এলাকার শিক্ষা চিত্রকে উন্নত করার দাবি পূরণ করে চলেছে। অত্যন্ত উচ্চমানের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সেই সবেরই প্রকৃষ্ট প্রতিফলন। দু’দিনের এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে বিশেষভাবে উপস্থিত হয়েছিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমান, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা ছাত্রনেতা অভিনব মুখার্জি প্রমুখ।