প্রবীর চৌধুরী (কলকাতা)

আমরা এখন আয়নার সামনে দাঁড়াই না
কারণ আয়নাগুলো সত্য কথা বলতে শিখে গেছে।
আর সত্য এখন বিপজ্জনক।
রাস্তার মোড়ে মোড়ে নিয়ন আলো আছে,
কিন্তু মানুষের চোখে অন্ধকার জমা ।
এতো যে হাসির ইমোজিতে ভরে ওঠে স্ক্রিন,
কিন্তু ভিতরে ভিতরে শুকিয়ে গেছে উচ্ছল নদী।
মুখগুলো উজ্জ্বল,
মুখোশগুলো আরও উজ্জ্বল।
বেকার ছেলেটি প্রতিদিন সকালকে সাক্ষাৎকার দেয়,
সন্ধ্যায় ফিরে আসে পরাজয়ের নীরবতা নিয়ে।
তার বাবার চোখে অনিদ্রা,
মায়ের কপালে অসংখ্য হিসেবের ভাঁজ
স্বপ্নগুলো সব কিস্তিতে বিক্রি হয়ে যায়-
একটা চাকরির বিজ্ঞাপনের নিচে।
রাজনীতি এখন রঙের খেলা –
লাল, সবুজ, গেরুয়া, নীল –
কিন্তু রক্তের রঙ একটাই,
সেটা কেউ মনে রাখে না।
মিছিলগুলো আজও হাঁটে স্লোগানের ভরসায়,
ব্যর্থ মানুষ হাঁটে পেটের দায়ে।
প্রেমও এখন অফারে পাওয়া যায়,
একটা “সিন” না-দেখার অভিমানে
সম্পর্ক ভেঙে যায়।
বিশ্বাস শব্দটা পুরোনো অভিধানে পড়ে থাকে,
কেউ খুলে দেখে না।
সংসারগুলো ইট-কাঠের খোল- নলচে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে,
ভেতরে জমে থাকে না-বলা শতছিন্ন হতাশার বাক্য
জীবনটাই এখন মস্ত ধাপার ক্ষেত্র – দুর্গন্ধময়।
ডাইনিং টেবিলে একসাথে বসে
চারজন মানুষ –
চারটি আলাদা পৃথিবী স্ক্রল করে।
তবু আশ্চর্য,
এই ভাঙা সময়ের ভেতরেও
একটা শিশু স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে
স্বপ্ন দেখতে যায়, কতটা অন্ধকার সামনে – জানে?
একজন বৃদ্ধ এখনও গাছ লাগায়
ভবিষ্যতের জন্য।
একজন কবি অন্ধকারে বসে
আলোর শব্দ খোঁজে।
হয়তো আমরা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাইনি।
হয়তো এখনও কোথাও
মানুষ হওয়ার চেষ্টাটা বেঁচে আছে –
খুব ছোট,খুব নরম, তবু জেদি।
সময় – ভাঙা আয়না হাতে দাঁড়িয়ে আছে
প্রতিটি ফাটলে আমাদের মুখ।
প্রশ্ন শুধু একটাই-
আমরা কি সাহস করে
নিজেদের দিকে একবার তাকাবো?