শোভনা মিশ্র (নয়ডা)

আজ তুমি গালে হাত দিয়ে
ভাবতে বসেছো সমাজ ?
ভাবতে তো হবেই, তুমিই যে দায়ি-
হিসেবে গরমিল, সোজা মিলছে না কিছুই ।
নর নারী প্রকৃতির সর্বোত্তম সৃষ্টি
কিন্তু তোমার পক্ষপাতিত্বে আজ
তার অসামঞ্জস্যতা, বিষাদময় বৈষম্যতা।
তোমার সংসারে কন্যা ভ্রুণের হত্যা হয়
মাতৃজঠরে আগাছার মত উপড়ে ফেলো
পৃথিবীর বাতাস তাদের জুটে না।
কিন্তু তারই মাঝে যেসব ফুল ফুটছে
কখনো নদীর জলে ভাসিয়ে দিচ্ছো
না হয় জঙ্গলে জ্যান্ত ছুঁড়ে ফেলছো
বা জীবন্তে জড়ের মত দাড়িয়ে আছে।
তুমি দিন দিন অসহায় নারীর
রক্ত রঞ্জিত শরীর অদেখা করলে
নির্যাতিত করে পথে ফেলে গেলে-
অন্তত একটা নারী বাঁচাতে।
কখনো আগুন ধরিয়ে, বিষ খাইয়ে
এক একটা তাজা প্রাণ কাড়ছো।
পৌরষত্বের গরিমার গান গাইছো।
সভা সমিতিতে নারী রক্ষার বুলি উড়াচ্ছো।
নারী হয়ে নারীকেও আঘাত হানছো-
জন্ম যখন অসম্পূর্ণ, মৃত্যুর কড়ানাড়া
শৈশব কারাগারে মুখ চেপে কাঁদে
কৈশোর ভিক্ষার বাটি নিয়ে ঘুরছে
আর অসহায় তারুণ্য নরখাদকের
হাত থেকে যদি বেঁচে ফিরে
সমাজ দাঁড়িয়ে থাকে তাকে বলি দেবার।
সময় বদলানোর হাওয়া বইছে
অবজ্ঞা, অবহেলা, অত্যাচারে জর্জরিত নারী
অদেখা স্বপ্ন কে বিসর্জন দিতে পারে
কিন্তু অপমানের জবাব দিতে
চণ্ডীর রূপও নিতে পারে।
আর দেরি না-ঔই দেখা যাচ্ছে
অবজ্ঞার কুঁয়া থেকে উঠে আসছে
লাল হয়ে যেন কোন অগ্ন্যুত্পাত
সুনামীর প্রবল তরঙ্গ ,বজ্রের কঠোর হুঙ্কার
টর্নেডো ঝড় না হয় ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন
সে তোমাকেও একদিন উপড়ে দিবে
গড়ে তুলবে এক নতুন সমাজব্যবস্থা।
যেখানে এতদিন তাদের দাবিয়ে রেখেছিলে
আজ তা ফাঁকা হতে চলেছে
স্থান পূরণের জন্য প্রস্তুত হও।।
