সুজান মিঠি (পূর্ব বর্ধমান)

কোনো নারী দিবস চাই না।
ধর্ষণ মুক্ত দিন চাই।
কোনোখানে কোথাও কোনো নারীর দিকে লোভ-চোখ উঠবে না। দৃষ্টিতে থাকবে না ধারালো অস্ত্র।
মেপে ফেলা হবে না তার বুকের মাংসের পরিমাণ।
পায়ের গোড়ালি উন্মুক্ত করে সে নারী নৃত্যে উন্মত্ত হবে। হাসবে। তার হাসিতে পাখি উড়বে। বাতাস গাইবে। বৃষ্টি সুখ সুখ গন্ধ দেবে মাটিকে।
কোনো নারী দিবস চাই না।
ধর্ষণ মুক্ত দিন চাই।
ধর্ষণের আগে ধর্ষকের যেন মনে পড়ে যায়, তার জন্ম ওই একইরকম এক যোনি থেকে, তার ঘরে তার বোন জামার ভিতরে ব্রা পরে। তারও পিরিয়ড হয়। তার স্ত্রী তাকে ভালো না বাসলেও শরীর ঠিকই উপুড় করে সে…
ধর্ষণের আগে ধর্ষকের মনে পড়ুক, নারী সরস্বতী, নারী লক্ষ্মী, নারী দুর্গাও।
নারী একলা অসহায় মুহূর্তে কোনো এক পুরুষের কামাতুর দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন রাখবে, আমায় চাইছো কেন? তোমার তো বউ আছে। দুই বাচ্চা আছে!
ধর্ষক ক্রুর হেসে উত্তর দেবে, জানো, আমার বউকে কখনো চুমু খাইনি!
নারীর ঠোঁট খুবলে খেয়ে নেওয়ার আগে সে পুরুষের মনে পড়ে যাক, আঃ! আজ তো ধর্ষণ-বিরোধী দিন!
অন্তত একটা গোটা দিন পৃথিবীর কোথাও, কোনো ঘরে, কোনো পথে, কোনো রাস্তায়, অন্ধকারে, আলোয়, চোখে চোখে, মনে মনে… কোনোখানে একটুও ধর্ষণ না হোক!