Press Release : 2026/03/25
কলকাতা, ৯ মার্চ, ২০২৬:
রেল পরিষেবা ক্ষেত্রে নারীদের অপরিহার্য ভূমিকার প্রতি এক বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে পূর্ব রেল আজ কলকাতার ফেয়ারলি প্লেসে অবস্থিত তার সদর দপ্তরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন বিভাগ, কর্মশালা এবং সদর দপ্তরের নির্বাচিত নারী কর্মীদের সম্মানিত করা। ইস্টার্ন রেলওয়ে ওমেন্স ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের (ERWWO) সভাপতি এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শ্রীমতী সীমা দেওস্কর প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এই বিশেষ মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেওস্কর, অ্যাডিশনাল জেনারেল ম্যানেজার শ্রী শীলেন্দ্র প্রতাপ সিং, প্রিন্সিপাল চিফ পার্সোনেল অফিসার শ্রীমতী জারিনা ফেরদৌসী এবং পূর্ব রেলের অন্যান্য প্রধান আধিকারিকগণ।
আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় শ্রীমতী জারিনা ফেরদৌসীর স্বাগত ভাষণের মাধ্যমে, যার পর শ্রীমতী সীমা দেওস্কর একটি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য পেশ করেন। তাঁর ভাষণে শ্রীমতী দেওস্কর নারী ক্ষমতায়নের চলমান যাত্রা এবং রেল খাতের অগ্রগতিতে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি আত্মনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং নারী কর্মীদের পেশাগত বাধা অতিক্রম করে প্রতিটি ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের সাথে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান চলাকালীন জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেওস্কর এবং শ্রীমতী সীমা দেওস্কর ব্যক্তিগতভাবে ৩১ জন নারী কর্মীর হাতে তাঁদের অসামান্য কর্মদক্ষতা এবং পরিষেবার প্রতি নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও শংসাপত্র তুলে দেন। পূর্ব রেল দীক্ষা রাইকেও সংবর্ধিত করেছে। তিনি আরপিএফ (RPF)-এর হেড কনস্টেবল ধর্মেন্দ্র রাইয়ের কন্যা, যিনি এই বছর ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষায় ৪০তম স্থান অধিকার করেছেন।
এই উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রী মিলিন্দ দেওস্কর উল্লেখ করেন যে, নারী কর্মীরা এই রেলওয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যাঁরা ইনডোর এবং আউটডোর উভয় ক্ষেত্রেই এমনকি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজেও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তিনি একটি সহায়ক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে পূর্ব রেলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন, যা নারীদের কর্মজীবনে উৎকর্ষ সাধন এবং জাতির উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে উৎসাহিত করে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, পূর্ব রেল নারী কর্মীদের দৈনন্দিন কাজের পরিবেশ উন্নত করতে বিভিন্ন নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধা ও পরিকাঠামো তৈরি করে চলেছে, যাতে তাঁরা রেল তথা দেশের সেবায় আরও ভালোভাবে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারেন।
এই অনুষ্ঠানে একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়, যার মধ্যে ছিল ‘নারী ক্ষমতায়ন’ থিমের ওপর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং তিনটি বিভাগে প্রতিযোগিতা— অন্তাক্ষরী, ফ্যাশন শো এবং কুইজ প্রতিযোগিতা। পূর্ব রেল তার অন্তর্ভুক্তিমূলক কাজের পরিবেশের জন্য গর্ব প্রকাশ করেছে যেখানে মহিলারা ট্রেনের চালক (লোকো পাইলট) হিসেবে ট্রেন চালানো থেকে শুরু করে গার্ড হিসেবে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, এবং স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে কাজ পরিচালনা থেকে শুরু করে টিকিট সংগ্রাহক ও বুকিং ক্লার্ক হিসেবে চমৎকার যাত্রী পরিষেবা প্রদান করছেন। এই কর্মীরা পেশাদারিত্ব এবং নিষ্ঠার উজ্জ্বল উদাহরণ, যা সমগ্র ব্যবস্থার উদ্ভাবন এবং দক্ষতাকে ত্বরান্বিত করছে।
তদুপরি, পূর্ব রেল তার নারী কর্মীদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য সক্রিয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, মেন্টরশিপের সুযোগ এবং কর্মজীবনে উন্নতির বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে তাঁরা তাঁদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারেন। ‘উদিসা’ অডিটোরিয়ামের এই ব্যাপক কর্মসূচিটি রেলওয়েতে নারীদের অমূল্য অবদানকে সম্মান জানানোর একটি সার্থক উদ্যোগ ছিল। পরিশেষে, সিপিও/অ্যাডমিন শ্রীমতী জ্যোৎস্না কুসুমাকারের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

