চেইন টানা বন্ধ করুন, মূল্যবান সময় বাঁচান: অপব্যবহারের বিরুদ্ধে পূর্ব রেলের লড়াই

চেইন টানা বন্ধ করুন, মূল্যবান সময় বাঁচান: অপব্যবহারের বিরুদ্ধে পূর্ব রেলের লড়াই

ER/Press Release : 2026/03/36

কলকাতা, ১২ মার্চ, ২০২৬ :

আপনি যদি মনে করেন যে অ্যালার্ম চেইন পুলিং (ACP) আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ট্রেন থামানোর একটি সহজ উপায়, তবে আরও একবার ভাবুন। শ্রী বিপ্লব বাউরির (নাম পরিবর্তিত) কাছে ৬৩১০১ লোকাল ট্রেনে বেথুয়াডহরি যাওয়ার সফরটি ছিল এক মূল্যবান শিক্ষা। কৃষ্ণনগর স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছাড়ার মুহূর্তেই তাঁর স্ত্রী উপলব্ধি করেন যে তাঁরা বিখ্যাত সরভাজা মিষ্টি কিনতে ভুলে গেছেন। প্যানিক বা আতঙ্কের বশবর্তী হয়ে—এবং সম্ভবত মিষ্টি ছাড়া বাড়ি ফেরার ভয়ে—বিপ্লব চেইন টেনে দেন। মিষ্টির স্বাদ নেওয়ার বদলে তাঁকে আরপিএফ (RPF)-এর মুখোমুখি হতে হয় এবং ১,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়; যা আদতে সেই না কেনা মিষ্টিগুলোকে বাংলার সবচেয়ে দামী মিষ্টিতে পরিণত করে। অন্যদিকে, অয়ন মল্লিকের (নাম পরিবর্তিত) এক “হিরো” বন্ধু হওয়ার চেষ্টা তাঁর ছুটি কাটানোর পরিকল্পনাকে আইনি দুঃস্বপ্নে বদলে দেয়। হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার সময় তাঁর এক বন্ধু তখনও প্ল্যাটফর্মে দৌড়াচ্ছিলেন। অয়ন বন্ধুকে বাঁচানোর জন্য চেইন টানেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে শ্রীঘরে যেতে হয়। ছুটি বাতিল হয়, ব্যাগ গোছানোই পড়ে থাকে এবং সেই “হিরো” তাঁর ছুটি কাটান আরপিএফ হেফাজতে।

অননুমোদিত চেইন টানা রেলের শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা এবং পরিবহন নেটওয়ার্কের জন্য একটি লজিস্টিক বিপর্যয়। যখন একজন যাত্রী বৈধ জরুরি অবস্থা—যেমন আগুন, চিকিৎসা সংকট বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া—ছাড়াই চেইন টানেন, তখন ট্রেনের ভ্যাকুয়াম ব্রেক সক্রিয় হয় এবং বিশাল ট্রেনটি মাঝপথে থমকে যায়। এটি কেবল একটি ট্রেনেরই দেরি করায় না; এটি পুরো ডিভিশন জুড়ে একটি বিশাল “ক্যাসকেডিং এফেক্ট” বা ক্রমিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সেই একটি দাঁড়িয়ে পড়া ট্রেনের পিছনে এক্সপ্রেস, মালগাড়ি এবং শহরতলির লোকালসহ ডজন খানেক ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়তে বা গতি কমাতে বাধ্য হয়। হাজার হাজার অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী এবং রোগী তাঁদের মূল্যবান সময় হারান শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির ব্যাগ ভুলে যাওয়া বা বন্ধুর দেরি করে আসার কারণে। এই বেপরোয়া আচরণ পূর্ব রেলের সামগ্রিক সময়ানুবর্তিতাকে বিঘ্নিত করে এবং হাজার হাজার নির্দোষ যাত্রীর মানসিক ও শারীরিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন যে, তুচ্ছ কারণে অ্যালার্ম চেইন টানা কেবল একটি ব্যক্তিগত ভুল নয়, বরং এটি একটি গুরুতর অপরাধ যা পুরো রেল নেটওয়ার্কের সময়ানুবর্তিতাকে বিপন্ন করে এবং হাজার হাজার সহযাত্রীর অসুবিধা সৃষ্টি করে। এই সংক্রান্ত আইন অত্যন্ত কঠোর এবং আপসহীন। রেলওয়ে আইনের ১৪১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত এবং পর্যাপ্ত কারণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি অ্যালার্ম চেইন টানলে তাঁর এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে। ২০২৪-২৫ সময়কালে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে, যেখানে ৪৩৯৪টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং ৪১৭২ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ধরনের অপরাধীদের কাছ থেকে মোট ১৯,৬৪,৫৯১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পূর্ব রেল সমস্ত যাত্রীদের কাছে আন্তরিক আবেদন জানাচ্ছে যে তাঁরা যেন জনসম্পত্তি এবং সহযাত্রীদের সময়ের মূল্য দেন। অনুগ্রহ করে স্টেশনে আগে পৌঁছান এবং ট্রেনে ওঠার আগে আপনার জিনিসপত্র পরীক্ষা করে নিন। অ্যালার্ম চেইন একটি জীবনদায়ী সরঞ্জাম, আপনার সুবিধার সুইচ নয়। মুহূর্তের বিচারবুদ্ধিহীন কাজ যেন আপনার জীবনে স্থায়ী অপরাধের রেকর্ড না আনে এবং একটি সুন্দর যাত্রাকে নষ্ট না করে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *